নিয়ত বায়ু কাকে বলে

নিয়ত বায়ু কাকে বলে

index 9
নিয়ত বায়ু কাকে বলে

পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে কতকগুলি স্থায়ী নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ বলয় আছে বলে কতকগুলি বায়ুও সারাবছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয় , এদের বলে নিয়ত বায়ু

নিয়ত বায়ু কয় প্রকার

নিয়ত বায়ু প্রধানত তিন প্রকার , যেমন — 

( ১ ) আয়ন বায়ু , 

( ২ ) পশ্চিমা বায়ু ও 

( ৩ ) মেরু বায়ু । 

আয়ন বায়ু :

উভয় গােলার্ধের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে দুটি বায়ু সারাবছর ধরে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয় , সেই বায়ু দুটিকে বলে আয়ন বায়ু । ‘ অয়ন ’ কথাটির অর্থ ‘ পথ ’ । আগেকার দিনে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথ ধরে প্রবাহিত এই বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে পালতােলা জাহাজে বাণিজ্য করা সুবিধা হত বলে এই বায়ুপ্রবাহকে আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলা হয় । আয়ন বায়ু দুই প্রকার —

উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু — উত্তর গােলার্ধে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে যাবার সময় ফেরেলের সূত্রানুসারে একটু ডানদিকে বেঁকে যায় । এর নাম উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু । 

দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু — দক্ষিণ গােলার্ধের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয় , সেটিও ফেরেলের সূত্রানুসারে একটু বামদিকে বেঁকে যায় । এই বায়ুপ্রবাহের নাম দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু । 

উত্তর গােলার্ধে স্থলভাগ বেশি বলে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুর গতিবেগ একটু কম , ঘণ্টায় ১৫-২৫ কিলােমিটার । অন্যদিকে , দক্ষিণ গােলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু ঘণ্টায় ২৫-৩৫ কিলােমিটার বেগে প্রবাহিত হয় । 

আয়ন বায়ু সাধারণত নিরক্ষরেখার দু-দিকে ০°-৫° থেকে ২৫° -৩০° অক্ষরেখার মধ্যে সারাবছর প্রবাহিত হয় । সুতরাং , দুটি গােলার্ধ মিলে প্রায় ৫০° থেকে ৬০° অক্ষরেখা জুড়ে আয়ন বায়ু বয়ে যায় এবং তা এই সুবিস্তৃত অঞ্চলের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে । 

পৃথিবীর বড়াে বড়াে উষ্ণ মরুভূমি সৃষ্টির ক্ষেত্রে আয়ন বায়ুর বিশেষ ভূমিকা আছে । কারণ , আয়ন বায়ু উপক্ৰান্তীয় অঞ্চল ( উচ্চ অক্ষাংশ ) থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের ( নিম্ন অক্ষাংশের ) দিকে ছুটে যায় । সুতরাং , অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চল থেকে উষ্ণ অঞ্চলের দিকে বয়ে যায় বলে এই বায়ু ক্রমশ উষ্ণ হয় এবং জলীয় বাষ্প ত্যাগের পরিবর্তে গ্রহণ ও ধারণের ক্ষমতা বেড়ে যায় । এজন্য আয়ন বায়ুর গতিপথে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না । এবং তাই সাহারা , কালাহারি , আটাকামা প্রভৃতি উষ্ণ মরুভূমিগুলি আয়ন বায়ুর গতিপথেই সৃষ্টি হয়েছে ।

পশ্চিমা বায়ু :

উত্তর ও দক্ষিণ গােলার্ধের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দুটি বায়ু দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারাবছর নির্দিষ্ট পথে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় , এদের বলে পশ্চিমা বায়ু । পশ্চিমা বায়ু দু-প্রকার — দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু এবং উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ফেরেলের সূত্র অনুসারে এই বায়ু দক্ষিণ গােলার্ধে বামদিকে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু নামে এবং উত্তর গােলার্ধে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু নামে প্রবাহিত হয় । দক্ষিণ গােলার্ধে ৪০ ° থেকে ৬০ ° অক্ষাংশের মধ্যে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগ বেশি বলে উত্তর  পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় কম বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং সারাবছর প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে পারে । একে বলে গর্জনশীল চল্লিশা । 

মেরু বায়ু :

সুমেরু ও কুমেরুর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে দুটি বায়ু নিয়মিতভাবে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় । একে বলে মেরু বায়ু । মেরু বায়ুও দুই প্রকার — উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু ।

উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু : উত্তর গােলার্ধের মেরু বায়ু সুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে ফেরেল -এর সূত্রানুসারে ডানদিকে বেঁকে সুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয় । এর নাম উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু । 

দক্ষিণ-পূর্ব মেরুবায়ু : দক্ষিণ গােলার্ধের মেরু বায়ু কুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে ধাবিত হবার সময় ফেরেল -এর সূত্রানুসারে বামদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু নামে প্রবাহিত হয় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!