বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

images 10
বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে যেসব ভূমিরূপ গঠিত হয় , তাদের মধ্যে ( ১ ) বালিয়াড়ি এবং ( ২ ) লোয়েস সমভূমি উল্লেখযােগ্য । 

বালিয়াড়ি

বালি পূর্ণ বায়ুর গতিপথে গাছপালা , বড়াে প্রস্তরখণ্ড , ঝােপঝাড় বা অন্য কোনােরকম বাধা থাকলে তাতে প্রতিহত হয়ে বায়ুবাহিত বালির কিছু অংশ সেখানে সঞ্চিত হয়ে ক্রমশ ঢিবির মতাে উঁচু হয়ে যায় । স্থূপাকারে সঞ্চিত এই বালির ঢিবিগুলিকে বলে বালিয়াড়ি । মরু অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয় , যেমন — 

মস্তক বালিয়াড়ি : 

প্রস্তরখণ্ডের যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয় , সেইদিকেই যদি বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয় , তবে তাকে মস্তক বালিয়াড়ি বা সংলগ্ন বালিয়াড়ি বলে । 

পুচ্ছ বালিয়াড়ি : 

প্রস্তরের যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয় ঠিক তার বিপরীত দিকে যদি সরু লেজের আকারে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয় , তবে তাকে পুচ্ছ বালিয়াড়ি বলে । 

পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি : 

প্রস্তরখণ্ডের উভয়দিকে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হলে তাকে পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি বলে । 

অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি : 

মস্তক বা সংলগ্ন বালিয়াড়ির কিছুটা আগে ঘূর্ণি বাতাসের জন্য অনেক সময় বালি সঞ্চিত হয়ে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয় । একে বলে অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি । 

অস্থায়ী বা চলমান বালিয়াড়ি : 

মরু অঞ্চলে অনেক সময় বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে সঞ্চিত বালুকারাশি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে সরে যায় । একে বলে অস্থায়ী বা চলমান বালিয়াড়ি । রাজস্থানের মরু অঞ্চলে এই চলমান বালিয়াড়িকে বলে ধ্রিয়ান । 

বিখ্যাত বিজ্ঞানী বার্গনল্ড বালিয়াড়িকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেন , যেমন —

তির্যক বালিয়াড়ি বা বার্খান : 

যেসব বালিয়াড়ি বায়ুর গতির সঙ্গে আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠে , তাদের বলে তির্যক বালিয়াড়ি । এর মধ্যে যেসব বালিয়াড়ি একেবারে অর্ধচন্দ্রের আকারে গড়ে ওঠে , সেই বালিয়াড়িগুলিকে বলে বার্খান । বার্খানের বায়ুমুখী ঢাল খাড়া হয় না , উত্তল আকৃতির হয় । তবে বিপরীত দিকের ঢাল খুব খাড়া এবং অবতল আকৃতির হয় । এগুলির উচ্চতা সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয় এবং এক একটি বার্খান প্রায় ৫ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত জায়গা জুড়ে অবস্থান করে ।  

যেসব তির্যক বালিয়াড়ি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মতো সেই বালিয়াড়ি গুলিকে বলে রােরডস বালিয়াড়ি । প্রকৃতপক্ষে , বিভিন্ন দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হলে বার্খানগুলিই রােরডস বালিয়াড়িতে পরিণত হয় । 

অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ি : 

যেসব বালিয়াড়ি বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে গড়ে ওঠে , সেইসব বালিয়াড়িকে বলে অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি । এদের মধ্যে যেগুলি খুব দীর্ঘ কিন্তু সংকীর্ণ , সেগুলিকে বলে সিফ বালিয়াড়ি

লোয়েস সমভূমি 

মরুভূমির সূক্ষ্ম বালিকণা , মৃত্তিকা প্রভৃতি বায়ুর মাধ্যমে বাহিত হয়ে বহু দূর স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে , তাকে বলে লােয়েস । উত্তর চিনের হােয়াংহাে নদীর উপত্যকায় এই লােয়েস ভূমি বা লোয়েস সমভূমি দেখা যায় । মধ্য এশিয়ার গােবি মরুভূমি থেকে মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে বালুকা রাশি উড়ে এসে চিনের হােয়াংহাে নদীর উপত্যকায় সঞ্চিত হয়ে এই লােয়েস ভূমি গঠিত হয়েছে ।

1 thought on “বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ”

Leave a Comment

error: Content is protected !!