বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

index 12
বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

বায়ুর কার্যের প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় শুষ্ক মরু অঞ্চলে । এই অঞ্চলে বায়ু প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে ক্ষয়কার্য করে— ( ১ ) অবঘর্ষ , ( ২ ) অপসারণ এবং ( ৩ ) ঘর্ষণ । এদের মধ্যে অবঘর্ষ এবং অপসারণ প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় । 

বায়ুর অবঘর্ষ এর ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

অবঘর্ষ এর ফলে মরু অঞ্চলে নিম্নলিখিত ভূমিরূপ গুলির সৃষ্টি হয় 一

ভেন্টিফ্যাক্ট : 

মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষের ফলে যখন পাথরের একদিক ( বায়ু যেদিক থেকে বয় সেইদিক ) মসৃণ ও ধারালাে হয়ে যায় , তখন সেই পাথরকে বলে ভেন্টিফ্যাক্ট । 

ড্রেইকান্টার : 

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় , তাহলে অবঘর্ষের ফলে পাথরেরও বিভিন্ন দিক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মসৃণ হয় এবং বিভিন্ন দিকের ধারগুলিও খুব তীক্ষ্ণ হয় । এইভাবে যেসব শিলাখণ্ড বা নুড়ির বায়ুর অবঘর্ষ ক্রিয়ার প্রভাবে তিনটি তল গঠিত হয় তাকে ড্রেইকান্টার বলা হয় । সাহারা মরুভূমিতে ড্রেইকান্টার দেখা যায় । 

গৌর : 

মরু অঞ্চলে অবঘর্ষের জন্য বৃহদাকৃতি শিলাখণ্ডের নিম্নাংশ যত বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় , ঊর্ধ্বাংশ তত হয় না । এজন্য ব্যাঙের ছাতার মতাে আকৃতির শিলাখণ্ডের সৃষ্টি হয় । একে বলে গৌর

জুগ্যান : 

মরুভূমির যেসব স্থানে ওপরের স্তরে কঠিন শিলা এবং নীচের স্তরে কোমল শিলা থাকে , সেখানে বায়ুর অবঘর্ষের ফলে জুগ্যান বা সমতল শিখর যুক্ত সমান্তরাল টিলা সৃষ্টি হয় ।

ওপরের কঠিন শিলাস্তরে যদি কোনাে ফাটল থাকে তবে তার মধ্য দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে । বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে ফাটল ক্রমশ বড়াে হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে বায়ু নীচের কোমল শিলাস্তরে পৌঁছে যায় । যেহেতু কোমল শিলাস্তর বায়ুর দ্বারা অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তাই গহ্বরের আকার ধারণ করে । এর ফলে কঠিন শিলা গঠিত অংশে চ্যাপটা ও সমতল শীর্ষদেশ বিশিষ্ট পরস্পর সমান্তরাল টিলা সমূহের সৃষ্টি হয় । এদের জুগ্যান বলে । আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সোনোরান মরু অঞ্চলে এইরূপ ক্ষয়কার্য দেখা যায় । 

ইয়ার্দাং : 

কঠিন ও নরম শিলাস্তর যখন ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করে , তখন নরম শিলাস্তরগুলি তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায় । এর ফলে কঠিন শিলাস্তরগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে উঁচু টিলার মতাে খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকে । এদের বলে ইয়ার্দাং । আরব দেশের মরু অঞ্চলে এই ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায় ।

ইনসেলবার্জ : 

অনেক সময়-প্রায় সমতল মরুভূমির বিক্ষিপ্ত ভাবে সমান উচ্চতা বিশিষ্ট অনেক টিলার অবস্থান লক্ষ করা যায় । এগুলি অত্যন্ত কঠিন পাথরে গঠিত , কিন্তু এগুলির উচ্চতা বেশি হয় না । অনুমান করা হয় যে , বহুযুগ ধরে ক্ষয় হওয়ার ফলে অঞ্চলটির সাধারণ উচ্চতা কমে গিয়ে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে , শুধু কঠিন পাথরে গঠিত অংশগুলি কোনােক্রমে ক্ষয়কার্য প্রতিরােধ করে টিলার আকারে দাঁড়িয়ে আছে । এই ধরনের ক্ষয়জাত পর্বত বা টিলাকে বলে ইনসেলবার্জ । দক্ষিণ আফ্রিকার কালাহারি মরু অঞ্চলে এবং অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে অনেক ইনসেলবার্জ দেখা যায় ।  

পেডিমেন্ট : 

মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশসমূহ যখন বায়ুর অবঘর্ষে ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে একটি প্রস্তরময় সমতল স্থানে পরিণত হয় , তখন তাকে বলে পেডিমেন্ট

ফাররা : 

মরু অঞ্চলে প্রবল বেগে প্রবাহিত বায়ুর সঙ্গে নানা আকৃতির অসংখ্য শিলাখণ্ড থাকে । এইসব শিলাখণ্ডের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা কোনাে শিলার ঘর্ষণে , দণ্ডায়মান শিলার গায়ে ফালি ফালি দাগের সৃষ্টি হয় । এগুলিকে ফাররা বলে । 

বায়ুর অপসারণের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ 

বায়ুর ক্ষয়কার্যের দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটি হল অপসারণ । এর ফলে মরু অঞ্চলে নিম্নলিখিত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় 一

ধান্দ : 

বালি অপসারিত হওয়ার ফলে কখনাে কখনাে মরু অঞ্চলে ছােটো বড়াে নানা আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয় । রাজস্থানের মরু অঞ্চলে এই ধরনের ছােটো ছােটো গর্তগুলিকে বলে ধান্দ । 

অনেক সময় বায়ুর অপসারণ ক্রিয়ার দ্বারা ভূপৃষ্ঠে বিশাল বিশাল খাদ বা অবনত অঞ্চলও গঠিত হয় । মিশরের মরু অঞ্চলের কাতারা এলাকায় এই ধরনের অবনত ভূমি দেখা যায় । 

মরুদ্যান বা ওয়েসিস :

বিশাল অঞ্চল জুড়ে বহুদিন ধরে বালি অপসারিত হতে হতে যদি অবনত অংশটির গভীরতা ভূগর্ভের জলস্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায় , তবে সেখানে মরুদ্যান বা ওয়েসিস গড়ে ওঠে ।

1 thought on “বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ”

  1. Very important information that should be known not only to the departmental students or teachers but to all to know the nature and to benefit human beings .

    Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!