অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ি

অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ি

longitudinal
অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ি

মরু অঞ্চলে প্রবহমান বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে বিভিন্ন প্রকার বালিয়াড়ি গঠিত হয় । এদের মধ্যে যেসব বালিয়াড়ি বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে গড়ে ওঠে এবং খুব দীর্ঘ কিন্তু সংকীর্ণ হয় , তাদের বলে সিফ বালিয়াড়ি । এগুলি দৈর্ঘ্যে কয়েক কিলােমিটার এবং উচ্চতায় কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত হতে পারে । দক্ষিণ ইরানের উপকূলের সিফ বালিয়াড়িগুলির উচ্চতা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত । অনেক সময় পরস্পর সমান্তরাল ভাবে অনেকগুলি সিফ বালিয়াড়ি গড়ে উঠতে দেখা যায় । সমান্তরাল সিফ বালিয়াড়ির সৃষ্টি সম্পর্কে অনেকে বলেন যে , প্রবল বায়ুপ্রবাহে অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি বা বার্খানের মাঝের অংশ ক্ষয় হয়ে দু-পাশে শিং -এর মতাে শিরা দুটি ক্রমশ বড়াে হয়ে অনুদৈর্ঘ্য বা সিফ বালিয়াড়ি রূপে সমান্তরাল ভাবে গড়ে ওঠে । পরপর কয়েকটি বার্খান থাকলে সেগুলি থেকে এইভাবে পাশাপাশি অনেকগুলি সিফ বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয় ।

অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ির বৈশিষ্ট্য : 

( ১ ) অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি প্রবহমান বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে গড়ে ওঠে । 

( ২ ) এগুলি দৈর্ঘ্যে কয়েক কিলােমিটার এবং উচচতায় কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত হতে পারে । 

( ৩ ) যেসব অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি খুব দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয় , সেগুলিকে বলে সিফ বালিয়াড়ি । 

( ৪ ) অনেক সময় এক জায়গায় পরস্পর সমান্তরাল ভাবে অনেকগুলি অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি গড়ে উঠতে দেখা যায় । 

( ৫ ) প্রবহমান বায়ুর গতিপথ স্থির থাকলে অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়িও স্থায়ী হয় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!