ভাষা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি

ভাষা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি

images 7
ভাষা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি

ভাষা হল ভাবের বাহন । মানুষের সহজাত প্রবণতাই হল একের ভাব অন্যের হৃদয়ে সঞ্চারিত করে একইভাবে ভাবিত করা । বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষার উদ্ভব । কিন্তু বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিই ভাষা নয় , যদি না ধ্বনি ভাব প্রকাশের উপযােগী অর্থপূর্ণ হয় । তা ছাড়া হাজার হাজার প্রবাল কীট আপন দেহের আবরণ মােচনের মাধ্যমে যেমন একসময়ে দ্বীপ বানিয়ে চলে , তেমনি বহুসংখ্যক মন আপনার অংশ দিয়ে গড়ে তােলে আপনার ভাষা দ্বীপ , যা সহজ কথায় জনগােষ্ঠীর ব্যবহৃত ভাষা । সেজন্য ভাষা সম্পর্কে বলা হয় ‘ মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত , ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন কোনাে বিশেষ সমাজে ব্যবহৃত , স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত , তথা বাক্যে প্রযুক্ত , শব্দ সমষ্টিকে ভাষা বলে ।’ বাংলা এদেশীয় একটি ভাষা , ইংরেজি বিদেশীয় একটি ভাষা । 

ভারতে প্রচলিত চারটি ভাষা বংশ হল — 

( ১ ) ভারতীয় আর্যভাষা

( ২ ) অস্ট্রিক ভাষা , 

( ৩ ) দ্রাবিড় ভাষা

( ৪ ) ভােট-চিনীয় ভাষা । 

ইন্দো-ইরানীয় ভাষার  অন্যতম শাখা হল ভারতীয় আর্যভাষা । আর্য ভাষাভাষী জনগােষ্ঠীর বিভিন্ন ধারা উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করে আনুমানিক খ্রি.পূ. ১৫০০ শতকে , তাদেরই ভাষা হল ভারতীয় আর্যভাষা । আর্যরা আসার আগে ভারতে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে বাস করছিল অনার্য অস্ট্রিক , দ্রাবিড় , ভােট-চিনীয় ও তিব্বতি-বর্মি জনগােষ্ঠীর মানুষ । অস্ট্রিক জনগােষ্ঠীর  ভাষা হল অস্ট্রিক ভাষা , যা কোল বা মুণ্ডা ভাষারূপে পরিচিত । দ্রাবিড় জনগােষ্ঠীর ভাষা দ্রাবিড়আন্ধ্র দুই প্রধান শাখায় বিভক্ত । ভােট-চিনীয় ও তিব্বতি-বর্মি জনগােষ্ঠীর ভাষা হল  ভোট-চিনীয় ভাষা । অস্ট্রিক , দ্রাবিড় ও ভােট-চিনীয় গােষ্ঠীর ভাষা অন্-আর্য বা আর্যেতর ভাষারূপে গণ্য । 

ভাষার প্রধান রূপ কয়টি

ভাষার প্রধান রূপ দুটি হল — ( ১ ) মৌখিক ( Colloquial ) ,  ( ২ ) লেখার বা সাহিত্যের ( Literary ) । 

লেখার বা সাহিত্যের ভাষারও দুটো ভাগ — ( ১ ) মান্য চলিত ( Standard Colloquial ) , ( ২ ) সাধু ( Standard Literary ) । যাই হােক , লেখার বা সাহিত্যের ভাষাতেই বই লেখা হয় । সংবাদপত্রে খবরাদি প্রকাশ করা হয় । ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া শেখানাে হয় । অষ্টাদশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশের সূচনাপর্ব থেকে সাধু ভাষার প্রতিপত্তি ছিল উনিশ শতকের মাঝামাঝি অবধি বেশ জোরদার । তারপর মান্য চলিত সাধু ভাষাকে হটিয়ে এখন সাহিত্যে , খবর প্রকাশে , রেডিয়াে ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রচারে , সভা সমিতিতে বক্তৃতায় একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত । মান্য চলিতে লেখা বই-ই ছাত্রছাত্রীদের পড়ানাে হয় , চিঠিপত্র লেখা হয় , সমগ্র বাঙালি ভাষা-সম্প্রদায়ের যােগাযােগের মাধ্যম হয়েছে মান্য চলিত , এখন বাঙালির মূল ভাষা বলতে মান্য চলিতই ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!