নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

Screenshot 2021 03 20 e0a6b8e0a78de0a6ace0a6bee0a6ade0a6bee0a6ace0a6bfe0a695 e0a6ace0a6bee0a681e0a6a7 e0a6ace0a6be e0a6b2e0...
নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

পার্বত্য অঞ্চলে নদী প্রধানত ক্ষয় কাজ করে এবং সমভূমি অঞ্চলে মূলত সঞ্চয় কাজ করে । নদীর এই সঞ্চয় কাজের ফলে কতকগুলি উল্লেখযােগ্য ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় , যেমন — 

( ১ ) ত্রিকোণ পললভূমি বা পলল ব্যজনী , 

( ২ ) নদীর চর , 

( ৩ ) প্লাবনভূমি , 

( ৪ ) স্বাভাবিক বাঁধ 

( ৫ ) বদ্বীপ এবং

( ৬ ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ।

ত্রিকোণ পললভূমি বা পলল ব্যজনী

পার্বত্য অঞ্চল ছেড়ে নদী যখন সমভূমিতে এসে পড়ে , ভূমির ঢাল তখন হঠাৎ কমে যায় বলে নদীর স্রোত এবং বহন ক্ষমতা — দুটিই হ্রাস পায় । এর ফলে সমভূমিতে পড়ার মুখে নদী উপত্যকায় পলি , বালি , কাকর প্রভৃতি জমে ত্রিকোণ পললভূমির সৃষ্টি হয় । প্রধানত পলি গঠিত এবং ব্যজনীর ( হাতপাখা ) মতাে দেখতে বলে একে পলল ব্যজনীও বলে । হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার বিভিন্ন উপনদীর গতিপথে এই ধরনের ভূমিরূপ প্রায়শই দেখা যায় ।

নদীর চর

সমভূমিতে নদীর গতিবেগ কম থাকার দরুন পার্বত্য অঞ্চল থেকে বয়ে আনা বিপুল পরিমাণ নুড়ি , পাথর , বালি প্রভৃতি নদীবক্ষে সঞ্চিত হয় । এর ফলে নদীবক্ষে চর বা দ্বীপ সৃষ্টি হয় । একে বলে নদীর চর । উদাহরণ — অসম সমভূমিতে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথে অসংখ্য চর বা দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে । এগুলির মধ্যে মাজুলি দ্বীপটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ । 

প্লাবনভূমি 

সমভূমিতে ভূমির ঢাল কম থাকে বলে নদী ধীরগতিতে প্রবাহিত হয় । বর্ষাকালে গতিপথের এই অংশে নদীতে হঠাৎ জল বেড়ে গেলে উপত্যকায় বন্যা বা প্লাবন হয় । প্লাবিত অঞ্চলে পলি , বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয় প্লাবনভূমি । উদাহরণ — বিহারে গঙ্গা নদীর গতিপথের দুপাশে এই প্লাবনভূমি লক্ষ করা যায় । 

স্বাভাবিক বাঁধ 

সমভূমিতে নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে সৃষ্টি হয় আর একটি উল্লেখযােগ্য ভূমিরূপ — স্বাভাবিক বাঁধ । সমভূমিতে নদীর গতিবেগ কম থাকে বলে জলের সঙ্গে যেসব পলি , বালি , কাদা প্রভৃতি বাহিত হয়ে আসে , নদী আর সেগুলি বহন করতে পারে না । সেগুলি নদীর দুই তীরে সঞ্চিত হয়ে বাঁধের মতাে উঁচু হয়ে যায় । প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয় বলে এর নাম স্বাভাবিক বাঁধ । উদাহরণ — সমভূমিতে গঙ্গা নদীর দুই তীরে বা মিশরে নীলনদের দুই তীরে উঁচু স্বাভাবিক বাঁধ দেখা যায় । 

বদ্বীপ 

নদী যখন মােহানায় চলে আসে , তখন তার জলের সঙ্গে বাহিত পলি , বালি প্রভৃতি মােহানার কাছে সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে এসে সহজে জোটবদ্ধ হয় এবং নদীর মােহনায় বা অগভীর সমুদ্রে জমা হয় । এগুলি ক্রমশ জমে জমে মােহানায় জলের ওপর নতুন ভূমি বা দ্বীপের সৃষ্টি করে । দ্বীপগুলি দেখতে ঠিক বাংলা অক্ষর মাত্রাহীন ‘ ব ’ এবং গ্রিক অক্ষর ডেল্টার ( Δ ) মতাে বলে এগুলিকে বলে বদ্বীপ বা ডেল্টা । উদাহরণ — গঙ্গা নদীর মােহনায় গড়ে ওঠা বদ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ

অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ 

সমভূমিতে নদী খুব বেশি এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হলে অনেক সময় দুটি বাঁকের মাঝখানের ভূমি ক্ষয় করে নদী সােজা বয়ে যায় । পরিত্যক্ত বাঁক তখন হ্রদ বা বিলে পরিণত হয় । একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!