আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন এর মধ্যে পার্থক্য

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন এর মধ্যে পার্থক্য

আবহবিকার 

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান , যেমন বায়ুর উষ্ণতা , বায়ুর চাপ , বায়ুপ্রবাহ , আর্দ্রতা , বৃষ্টিপাত , তুষারপাত প্রভৃতির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহের যে ক্ষয় বা পরিবর্তন হয় , তাকে বলে আবহবিকার বা বিচূর্ণীভবন । আবহবিকারের মাধ্যমে শিলার ভৌত অথবা রাসায়নিক যেকোনাে পরিবর্তন হতে পারে । কোন জায়গায় কীরূপ আবহবিকার হবে তা নির্ভর করে প্রধানত ওই জায়গার শিলার প্রকৃতি এবং জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের ওপর । আবহবিকারকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— ( ১ ) যান্ত্রিক আবহবিকার এবং ( ২ ) রাসায়নিক আবহবিকার এছাড়া উদ্ভিদ , জীবজন্তু প্রভৃতির মাধ্যমে শিলার যে বিচূর্ণীভবন হয় , তাকে জৈবিক আবহবিকার বলে ।

ক্ষয়ীভবন 

ক্ষয়ীভবন হল একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া , যার মাধ্যমে বিচূর্ণীকৃত শিলাখণ্ড অন্যত্র স্থানান্তরিত হয় । আবহবিকার বা বিচূর্ণীভবনের মাধ্যমে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয় এবং সেগুলি অপসারিত হয় ক্ষয়ীভবনের সাহায্যে । নদী , বায়ু , হিমবাহ প্রভৃতি প্রবহমান প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ।

আবহবিকারের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের শিলা সমূহ চূর্ণবিচূর্ণ হয় , কিন্তু বিচূর্ণীকৃত অংশগুলি অপসারিত হয় না । যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অপসারণ হয় , তাকে বলে ক্ষয়ীভবন । সুতরাং , উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হল — বিচূর্ণীভবন বা আবহবিকারের মাধ্যমে শিলা সমূহ চূর্ণবিচূর্ণ এবং ( মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ) স্থানচ্যুত হয় । আর ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে বিচূর্ণীকৃত শিলাখণ্ডগুলি দূরে অপসারিত হয় । তাই এই দুটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া । দুটি প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে বলে নগ্নীভবন বা ডেনুডেশন

Leave a Comment

error: Content is protected !!