মুঘল আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা

মুঘল আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা

মুঘল যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সমসাময়িক ফারসি সাহিত্য ও বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ থেকে নানা তথ্য জানা যায় । ‘ বাবরনামা ’ , ‘ হুমায়ুননামা ’ ,‘ আইন ই আকবরী ’ প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে সে যুগের কৃষি , শিল্প ও বাণিজ্যের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় । 

মুঘল যুগে কৃষি ব্যবস্থা

মুঘল যুগে কৃষি ছিল অধিকাংশ মানুষের প্রথম জীবিকা এবং সরকারি রাজস্বের প্রধান উৎস । ধান , গম ছাড়াও রেশম , তুলা , তামাক , তৈলবীজ , আখ প্রভৃতির ব্যাপক চাষ-আবাদ হত । উত্তরপ্রদেশ , বাংলা ও বিহার সর্বাধিক আখের চাষ হত । উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে নীলচাষ হত । কৃষিপদ্ধতি ছিল পূর্বের মতােই । কৃষি-সরঞ্জামসমূহও ছিল চিরাচরিত । কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে । ফলে চাষের জলের জন্য মূলত বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করতে হত । পুকুর বা খাল-বিল থেকেও কিছু জলের যােগান পাওয়া যেত । ‘ হুমায়ুননামা ’ গ্রন্থ থেকে জানা যায় , আকবর থেকে ঔরঙ্গজেব-এর শাসনকাল পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন খাদ্যশস্য , দুগ্ধজাত দ্রব্য , মাছ-মাংস ও পােশাক-পরিচ্ছদের দাম ছিল খুবই সস্তা । একমাত্র যুদ্ধ বা অজন্মার সময় জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বগতি হত । জিনিসপত্রের স্বল্পমূল্য থাকার ফলে সাধারণ মানুষ সুখে জীবন কাটাতে পারত । স্মিথের  মতে , বর্তমান কালের তুলনায় তখনকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত ছিল । কিন্তু করভার ও উৎপাদন বণ্টনের বৈষম্যহেতু মুঘলযুগে সাধারণ কৃষিজীবী মানুষের অবস্থা সচ্ছল ছিল বলেই আধুনিক গবেষকদের সিদ্ধান্ত । কৃষকদের জাবতি , নাসক , গাল্লাবকস প্রভৃতি প্রথানুযায়ী সরকারি রাজস্ব প্রদান করতে হত । রাজস্বের পরিমাণ উৎপন্ন ফসলের এক এর তিন অংশ থেকে দুই এর তিন অংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল । ফলে কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা বাড়তে থাকে । 

মুঘল যুগে জমিদার শ্রেণী

মুঘল যুগে কৃষি ও রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন জমিদার শ্রেণী । এঁরা বংশানুক্রমিক ভাবে জমি ভােগ করতেন । জমিদাররা রায়ত ও সরকারের মধ্যে যােগসূত্রের কাজ করতেন । সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারির স্বত্ব ছিল বিভিন্ন প্রকার । মুঘল আমলে জমিদার শ্রেণীর মধ্যে শ্রেণিভেদ ছিল । প্রথম শ্রেণিতে ছিল ‘ রায় ’ , ‘ রানা ’ , ‘ রাজা ’ প্রভৃতি উপাধিকারী ‘ পেশকাশী ’ জমিদার , যাঁরা বছরে একবার সরকারকে ‘ পেশকাশ ’ বা নজরানা দিতেন । এঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের জমিদারি পরিচালনার অধিকারী ছিলেন । দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত জমিদার ‘ মালগুজারি ’ বা ‘ মালওয়াজির ’ নামে পরিচিত ছিলেন । জমির উপর এঁদের স্বত্ব স্বীকৃত ছিল । এঁরা রায়ত মাধ্যমে চাষ-আবাদ করতেন এবং নির্দিষ্ট রাজস্ব আদায় করে তা সরকারকে জমা দিতেন । এই কাজের জন্য এঁরা আদায়ীকৃত রাজস্বের একটা অংশ ( নানকর ) ভােগ করতেন । তৃতীয় শ্রেণির জমিদারগণ প্রশাসনে ও রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সাহায্য করতেন । এদের বলা হত ‘ খিদমতী ’ জমিদার । এঁদের উপাধি ছিল ‘ চৌধুরী ’, ‘ মুকাদ্দম ’ , ‘ কানুনগাে ’ , ‘ দেশমুখ ’ প্রভৃতি । আর এক শ্রেণির জমিদার ছিলেন ‘ তালুকদার ’ । এঁরা নির্দিষ্ট ‘ তালুক ’-এর স্বত্ব ভােগ করতেন । এ ছাড়া ‘ ইনামদার ’ , ‘ ওয়াকফদার ’ প্রমুখ জমির উপস্বত্ব ভােগ করতেন । মুঘল যুগের অর্থনীতিতে এইসব জমিদারের বিরাট ভূমিকা ছিল । জমির উন্নতিবিধান করা , কৃষককে কৃষিকাজে নিয়ােজিত করা , যথাসময়ে ও নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব আদায় করা , নিজ নিজ জমিদারির উন্নতিবিধান করা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রভৃতি বহুবিধ কাজ জমিদারদের করতে হত । 

জায়গীরদার শ্রেণি :

মুঘল যুগে অপর রাজস্ব আদায়কারী শ্রেণি ‘ জায়গীরদার ’ নামে পরিচিত ছিল । জমিদারদের সাথে এদের পার্থক্য হল , এঁরা বংশানুক্রমিকভাবে জায়গীর পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না । তা ছাড়া , সম্রাটের ইচ্ছানুযায়ী জায়গীর বদল করা হত । জমির উপর জায়গীরদারদের কোনাে অধিকার ছিল না । 

রায়ত শ্রেণি :

মুঘল-কৃষি ব্যবস্থার সর্বনিম্নে ছিল কৃষক বা রায়ত । ‘ আইন-ই-আকবরী ’ থেকে জানা যায় যে , অনেক কৃষক বংশপরম্পরায় জমি ভােগদখল ও চাষ আবাদ করত । তবে এদের জমি বিক্রয় বা বন্ধক দেওয়ার অধিকার ছিল না । এরা কৃষিকার্যে অপারগ হলে জমিদার এদের জমি অন্যকে বন্দোবস্ত দিতেন । ইরফান হাবিব  মুঘল যুগে রায়তদের দুর্দশার জন্য প্রধান দুটি কারণের নির্দেশ করেছেন । 

প্রথমত , প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষি-উৎপাদন নানাভাবে ব্যাহত হত । অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির ফলে মাঝে মাঝেই চাষ বন্ধ হয়ে যেত । এর ফলেই গুজরাট ( ১৬৩০-৩২ খ্রিঃ ) ও দাক্ষিণাত্যে ( ১৭০২-০৩ খ্রিঃ ) ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দিয়েছিল । এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল , বহু মানুষ মারা গিয়েছিল এবং ওইসব অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ার ফলে পরবর্তী বছরগুলিতেও ওইসব অঞ্চলে কৃষিকাজ সম্ভব হয়নি । 

দ্বিতীয়ত , জমিদার ও শাসকশ্রেণির অতিরিক্ত শােষণ কৃষকদের সর্বস্বান্ত করে ছেড়েছিল । জমিদার বা জায়গীরদার জমির উন্নয়নে বিশেষ মনােযােগী ছিলেন না । অথচ রাজস্বের আদায়ে কড়াকড়ি করে কৃষকদের অর্ধাহারে বা অনাহারে জীবন কাটাতে বাধ্য করতেন । এর প্রতিবাদে মুঘল যুগে নানাস্থানে ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল । এগুলির মধ্যে আগ্রা ( ১৬১০ খ্রিঃ ) , থাট্টা ( ১৬১২ খ্রিঃ ) , কনৌজ ও কালপি ( ১৬১১ খ্রিঃ ) প্রভৃতি কৃষক আন্দোলন উল্লেখযােগ্য । 

মুঘল যুগের শিল্প

মুঘল যুগের অর্থনীতিতে শিল্পকর্মেরও একটি ভূমিকা ছিল । ঐ যুগে শিল্প সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগেই পরিচালিত হত । ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ের বিবরণ ও ‘ আইন-ই-আকবরী ’ থেকে জানা যায় , সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত কারখানাগুলিতে সুচের কাজ , মসলিন বা রেশমের কাজ , কাঠের কাজ প্রভৃতি হত । লাহাের , আমেদাবাদ , ফতেপুর , আগ্রা প্রভৃতি স্থানে সরকারি কারখানা ছিল । সুদক্ষ কারিগরেরা সরকারি কারখানায় চাকরি পেত । সে যুগে কুটির শিল্প ছিল বহুল প্রচলিত । কুটিরশিল্পজাত দ্রব্যের মধ্যে রেশম ও তুলোজাত পণ্যসামগ্রী ছিল বিখ্যাত । প্রায় সারা দেশ জুড়ে সুতিশিল্প সম্প্রসারিত ছিল । বারাণসী , আগ্রা , গুজরাট , খান্দেশ , পাটনা , জৌনপুর , লক্ষৌ ও বাংলা ছিল সুতিশিল্পে বিখ্যাত । ঢাকার মসলিন তাে ছিল জগদ্বিখ্যাত । সুতিশিল্পের সাথে সাথে রঞ্জনশিল্পও মুঘল যুগে উন্নতি লাভ করেছিল । এডওয়ার্ড টেরি  সে-যুগের রঞ্জনশিল্পে নৈপুণ্যের প্রশংসা করেছেন । অকবর লাহােরে কার্পেটশিল্প প্রবর্তন করেন । জাহাঙ্গীর অমৃতসরে পশমগালিচা ও শালশিল্প স্থাপন করেছিলেন । চিনিশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ছিল পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ । মুঘল আমলে সেযুগের প্রয়ােজনীয় জাহাজ তৈরির কারখানা ছিল । 

মুঘলযুগে শিল্পকারখানা থাকলেও শিল্পী কারিগরদের অবস্থা সচ্ছল ছিল বলা যায় না । বণিক বা দালাল , সরকারি অভিজাত বা আমলা কেউই শিল্পীদের নির্যাতন করতে দ্বিধা করত না । অনেক সময় তাদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হত না । অনেক সময় তাদের উৎপাদিত সামগ্রী কম দামে বিক্রয় করতে বাধ্য করা হত । 

মুঘল যুগের ব্যবসা বাণিজ্য

মুঘল যুগের অর্থনীতিতে ব্যবসা বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল । সে যুগে অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্য উভয় প্রকার বাণিজ্য চলত । অন্তর্বাণিজ্যের জন্য স্থলপথ ও জলপথ ব্যবহৃত হত । দিল্লি , আগ্রা , লাহাের প্রভৃতি শহরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যােগাযােগের জন্য প্রায় চব্বিশটি সুদীর্ঘ সড়কপথ ছিল । তা ছাড়া , নদী ও খালপথে নৌকাযােগে বাণিজ্যিক লেনদেন হত । জল-পরিবহণ অপেক্ষাকৃত সস্তা ছিল বলে খাদ্যশস্য , লবণ প্রভৃতি জলপথে আনা-নেওয়া হত । উত্তর ভারতে সবচেয়ে বেশি মাল পরিবহণ হত গঙ্গানদী দিয়ে । 

ইউরােপীয় বণিকদের আগমনের পর ভারত সামুদ্রিক বাণিজ্যে যথেষ্ট প্রসার লাভ করেছিল । বার্ণিয়ে  বলেছেন , বিদেশি বণিকদের আকৃষ্ট করার মতাে বহু সামগ্রী ভারতে ছিল । বাংলার সাতগাঁ , সােনারপুর , চট্টগ্রাম , পূর্ব-উপকূলে মসুলিপট্টম এবং পশ্চিম উপকূলে মালাবার , বােঞ্চ , বেসিন , সুরাট , ক্যাম্বে প্রভৃতি বন্দর থেকে সামুদ্রিক বাণিজ্য চলত । সিংহল , ব্রহ্মদেশ , চিন , জাপান , নেপাল ও বিভিন্ন ইউরােপীয় দেশের সাথে ভারতের বহির্বাণিজ্য চলত । ভারত থেকে ইউরােপে সাধারণত সুতিবস্ত্র , মসলিন , নীল , অহিফেন , চিনি , সােরা ও নানারকমের মশলা রপ্তানি হত । বিদেশ থেকে আমদানি- সামগ্রীর মধ্যে ছিল মণিমুক্তা , রূপা , ভেলভেট , চিনামাটির বাসন , অশ্ব , হাতির দাঁত প্রভৃতি । দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরােপের বাজারে ভারতের সুতিবস্ত্রের বিপুল চাহিদা ছিল । 

মুঘল যুগের বণিক শ্রেণি

বার্নিয়ে  বলেছেন , ভারতীয় বণিক ও দালালগণ ছিল ভীষণ দক্ষ ও চতুর । অধ্যাপক সতীশ চন্দ্রের  বিবরণ থেকে জানা যায় , মুঘল রাজপরিবারের বহু সদস্য এমনকি কোনাে কোনাে সম্রাটও ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন । ইংরেজ কুঠিয়ালদের নথিপত্র থেকে জানা যায় , জাহাঙ্গীর , নূরজাহান , শাহজাহান প্রমুখের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বড়াে বড়াে জাহাজ ছিল , যেগুলি বাণিজ্যকর্মে নিয়ােজিত থাকত । বহিরাগতদের মধ্যে ইংরেজ , ওলন্দাজ , পাের্তুগিজ প্রমুখ বিদেশি এদেশের অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করত । ভারতীয় বণিকদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল গুজরাটি । পাের্তুগিজ ঐতিহাসিক টোম পাইরেসের  গ্রন্থ থেকে জানা যায় , মুঘল যুগের বাণিজ্যে গুজরাটিরা ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী । এরা প্রত্যেকেই প্রভূত অর্থসম্পদ ও বৃহদাকার জাহাজের অধিকারী ছিল । নিজেদের বাণিজ্যের পথে প্রতিদ্বন্দ্বী বা বাধা অপসারণের জন্য এরা যে-কোনাে কাজ করতে পিছপা হত না । 

ভারতের পেশাদারি ব্যবসায়ীদের কয়েকটি শ্রেণি ছিল । ব্যবসার রীতিনীতির পার্থক্য থেকে এই শ্রেণিভেদের উৎপত্তি। ‘ শেঠ ’ বা ‘ বােহরা ’ শ্রেণি পাইকারি ব্যবসা করত । ‘ বানজারা ’ নামক বণিকগােষ্ঠী স্থলপথে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ব্যবসা করত । সুলতানি যুগে এরাই ‘ ক্যারাভেন ’ ব্যবসায়ী নামে অভিহিত হয় । এরা প্রধানত খাদ্যশস্য কেনাবেচা করত । 

মুঘল যুগের নগর সমূহ

মুঘল ভারতে বহু সমৃদ্ধিশালী ও জনবহুল নগর ছিল , যেগুলি ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত । এইসব শহরে মুঘল-অভিজাত পরিবারবর্গ ও ধনী বণিক সম্প্রদায় বসবাস করত । ফলে মালপত্রের চাহিদা ছিল খুব বেশি । আগ্রা , মােরাদাবাদ , ফিরােজাবাদ , বারাণসী , ঢাকা , মুর্শিদাবাদ , বুরহানপুর , সুরাট প্রভৃতি ছিল মুঘলযুগের কয়েকটি বিখ্যাত শহর । 

মূল্যায়ন 

মুঘল ভারত অর্থনৈতিক অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বার্নিয়ে  লিখেছেন , “ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল উন্নত , ধনসম্পদের প্রাচুর্য ছিল এবং মুঘল দরবারের ঐশ্বর্য ও আড়ম্বর ছিল অতুলনীয় । ” ইংরেজ দূত হকিন্স  লিখেছেন , “ মুঘল-সম্রাটের আয় সমসাময়িক কালের তুরস্ক বা পারস্য সম্রাটের থেকে বহুগুণ অধিক ছিল । মুঘল ভারতের ধনসম্পদ সম্পর্কে উপরিলিখিত বক্তব্য ছিল ছবির একটিমাত্র দিক-এর বিশ্লেষণ । সম্রাটের বা রাজদরবারের সমৃদ্ধি সারা দেশের এবং আপামর জনসাধারণের আর্থিক সমৃদ্ধি প্রমাণ করে না । বাস্তবিক ক্ষেত্রে মুঘলযুগে ধন-বণ্টনের বৈষম্য ছিল প্রকট । একদিকে অভিজাতশ্রেণির বিপুল ধনসম্পদ ও বিলাসব্যসন এবং অন্যদিকে সাধারণ কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের দ্রারিদ্র্য ও অভাব ছিল মুঘলযুগের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য । অভিজাত ও সেনাবাহিনী-সহ প্রশাসনের বিশাল ব্যয়ভার মেটানাের জন্য কৃষক ও কারিগরদের উপর করভারের বােঝা ছিল অব্যাহত । 

2 thoughts on “মুঘল আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা”

Leave a Comment

error: Content is protected !!