সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গঠন

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গঠন

united nations organisation
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গঠন

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বহু বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত । সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের যাবতীয় কার্য ছয়টি প্রধান অঙ্গ বা সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ বেশ কয়েকটি উপসংস্থা সমিতি এবং পর্যবেক্ষক মণ্ডলীর দ্বারা পরিচালিত হয় । হার্টম্যানের  মতে — সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ হল গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলির নিরিখে জাতিসংঘের একটি উন্নততর সংস্করণ ( ” … the UNO is so far as its vital functions are concerned , an improved version of the League ” )।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গঠনগত বিভাগ 

জাতিপুঞ্জের সনদের ৭ নং ধারাতে জাতিপুঞ্জের ক্ষেত্রে দু-ধরনের বিভাগের উল্লেখ রয়েছে । একটি হল মুখ্য , অপরটি হল সহায়ক । প্রথমটির অধীনে রয়েছে সাধারণ সভা , নিরাপত্তা পরিষদ , অর্থনৈতিকসামাজিক পরিষদ , অছি পরিষদ , আন্তর্জাতিক বিচারালয়সচিবালয় বা দপ্তর ইত্যাদি ৬ টি বিভাগ । প্রয়ােজনে মুখ্য সংগঠনগুলিকে সহায়ক সংগঠন গড়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে । যেমন , সাধারণ সভা গঠন করেছে পারমাণবিক শক্তি কমিশন , আবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ গঠন করেছে মানবাধিকার কমিশন । এরকম প্রায় ৩০০ টি সহায়ক অঙ্গ এখনও পর্যন্ত গঠিত হয়েছে ।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মুখ্য বিভাগ সমূহের গঠন 

সাধারণ সভা : 

জাতিপুঞ্জের সনদের ৯-২২ নং ধারার মধ্যে সাধারণ সভার ( General Assembly ) গঠন সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে । রাষ্ট্রসংঘের প্রত্যেকটি সদস্যরাষ্ট্রই সাধারণ সভার সদস্য । প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র অনধিক ৫ জন প্রতিনিধি সাধারণ সভায় পাঠাতে পারে । তবে প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্রের ভােটদানের ক্ষমতা মাত্র একটাই । ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের এই বৃহৎ বিভাগটির সদস্যরাষ্ট্র সংখ্যা ছিল ১৯১ টি । সারাবছর ধরে সাধারণ সভার কাজ পরিচালনা করে ৬ টি কমিটি । ল্যাংসামের  মতে— সাধারণ সভা একটি পরিদর্শক , সমালােচক ও আলােচনা সভামাত্র ( ” .. deliberative organ , an oversheering , reviewing and criticizing organ ” )। 

নিরাপত্তা পরিষদ : 

নিরাপত্তা পরিষদ ( Security Council ) হল জাতিপুঞ্জের প্রকৃত কার্যনির্বাহী সংস্থা । স্থায়ী ও অস্থায়ী এই দুধরনের সদস্য নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত । নিরাপত্তা পরিষদের মােট সদস্য রাষ্ট্র হল ১৫ টি । যার মধ্যে ৫ জন স্থায়ী ও ১০ জন অস্থায়ী সদস্য । পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হল রাশিয়া , ইংল্যান্ড , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , গণপ্রজাতন্ত্রী চিনফ্রান্স এবং ১০ টি অস্থায়ী সদস্যের মধ্যে এশিয়া থেকে দুটি , আফ্রিকা থেকে তিনটি , লাতিন আমেরিকা থেকে দুটি , পূর্ব ইউরােপ থেকে একটি , পশ্চিম ইউরােপ ও অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত হয় দুটি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র । প্রতিটি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত হয় সাধারণ সভার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভােটে । 

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ : 

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য সবসময় এই পরিষদের সদস্য হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয় । অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বা ECOSCO ( Economic and Social Council )-এর মােট সদস্য সংখ্যা ৫৪। প্রতি বছর এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৮ টি সদস্য রাষ্ট্রের কার্যকাল শেষ হয় এবং ১৮ টি নতুন সদস্য রাষ্ট্র নির্বাচিত বা পুনর্নির্বাচিত হয় । সাধারণ সভা কর্তৃক মনােনীত প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের কার্যকালের মেয়াদ হল ৩ বছর । 

অছি পরিষদ : 

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও সাধারণ সভার দ্বারা নির্বাচিত সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে অছি পরিষদ ( Trusteeship Council ) গঠিত হয় । সাধারণ সভা কর্তৃক ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হয় এইসব সদস্য রাষ্ট্র । পূর্ণ অব-উপনিবেশিকরণের ( decoloniration ) ফলে অছি পরিষদের প্রয়ােজন না থাকায় এর অস্তিত্ব লােপ পায় । 

আন্তর্জাতিক বিচারালয় : 

আন্তর্জাতিক বিচারালয় ( International Court of Justice ) ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত । এটি নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত । কোনাে দেশ থেকে দুজনের বেশি বিচারপতি আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে নিয়ােগ করা যায় না । সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা বিচারপতিরা নয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন । প্রতি তিন বছর ছাড়া পাঁচজন করে বিচারপতি অবসর নেন । 

সচিবালয় : 

একজন মহাসচিবের অধীনে ৮ টি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয় সচিবালয় । যা বিভিন্ন দপ্তরে বিভক্ত । সচিবালয়ে ১ জন মহাসচিব , ৮ জন উপমহাসচিব কর্মরত থাকেন ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!