আটলান্টিক সনদ কি

আটলান্টিক সনদ কি

index 22
আটলান্টিক সনদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মধ্যে এক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল । যার নাম আটলান্টিক চার্টার বা আটলান্টিক সনদ । রুজভেল্ট ও চার্চিল নিউ ফাউন্ডল্যান্ডে দীর্ঘ আলাপ-আলােচনার শেষে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ভাসমান যুদ্ধজাহাজ প্রিন্স অব ওয়েলস্ -এ মিলিত হয়ে এক শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ হন ( ১৯৪১ খ্রি. ৯ আগস্ট ) । ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে । 

আটলান্টিক সনদের উদ্দেশ্য 

বিশ্বজুড়ে এক শান্তির পরিবেশ গড়ে তােলার উদ্দেশ্য নিয়েই আটলান্টিক সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল । যুদ্ধের বিষাক্ত ছােবলের হাত থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করাই ছিল এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য । এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তাই পারস্পরিক মতভেদ ভুলে দুই দেশ এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয় ।

আটলান্টিক সনদের শর্ত 

আটলান্টিক চুক্তিতে যেসব শর্ত বা নীতি ছিল সেগুলি হল — 

1. এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোনাে রাষ্ট্র সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি গ্রহণ করবে না এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে মর্যাদা ও সম্মান জানাবে । 

2. পরাধীন জাতিগুলির স্বাধীনতা অর্জনের অধিকার আছে এবং প্রতিটি দেশের জনগণ নিজেদের পছন্দ মতাে সরকার ও প্রশাসন গঠন করতে পারবে । 

3. শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের উন্নতির জন্য বিভিন্ন দেশ একে অপরের সঙ্গে সহযােগিতার নীতি অনুসরণ করবে । কোনাে রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ অন্য রাষ্ট্রের জনমতকে গুরুত্ব দেবে । 

5. ছােটো ও বড়াে , শত্রু-মিত্র এই সীমারেখার উর্ধ্বে সকল রাষ্ট্রই ব্যাবসা বাণিজ্য ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষেত্রে সমান সুযােগ সুবিধা পাবে । 

6. নাৎসি ও ফ্যাসিবাদের পতনের পর প্রতিটি রাষ্ট্র বিদেশি আক্রমণের আশঙ্কা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ উন্নতিতে যাতে সচেষ্ট হতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে । 

7. প্রতিটি দেশ তাদের সামরিক শক্তিকে কমাবে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ও নিরাপত্তা রক্ষায় এগিয়ে আসরে । 

8. সমুদ্রের উপর সকল রাষ্ট্রের সমান অধিকার থাকবে এবং বিশ্বের প্রধান সমুদ্রপথগুলি সকল দেশের জন্যই খােলা থাকবে । 

আটলান্টিক সনদের প্রকৃতি 

আটলান্টিক চার্টার বা আটলান্টিক সনদ আসলে কোনাে চুক্তি নয় । এটি আসলে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিধর দুই দেশের কিছু উঁচু আদর্শের ঘােষণা । এই সনদ স্বাক্ষরের সময়েই বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ একে স্বাগত জানিয়েছিল । 

আটলান্টিক সনদের গুরুত্ব 

1. এই চুক্তির ফলে আমেরিকা ও ব্রিটেন এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও নিবিড় হয় । 

2. আটলান্টিক সনদ চূড়ান্তভাবে রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তুতির ভিত্তি না হলেও সনদের ৫ নং ৬ নং ও ৮ নং ধারার মধ্যে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে । 

3. আটলান্টিক সনদের মূল বক্তব্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে জাতিপুঞ্জের সনদের মধ্যে স্থান পাওয়ায় আটলান্টিক সনদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!