ভারতের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণের কারণ

ভারতের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণের কারণ

রাজনৈতিক স্বাধীনতা অটুট রাখার জন্য সবার আগে প্রয়ােজন এক সুদৃঢ় অর্থনৈতিক বুনিয়াদ । স্বাধীনতার পর ভারতের মতাে কৃষিভিত্তিক অনুন্নত দেশের পক্ষে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রয়ােজন অস্বীকার করা যায় না । ভারতীয় সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি অনুযায়ী অর্থনৈতিক কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে । এই অর্থনৈতিক কর্মসূচির অঙ্গরূপে গ্রহণ করা হয়েছে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ।  

জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা 

অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ধরে রাখার জন্য জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি ঘটানাে প্রয়ােজন । কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ ভাবে সঞ্চয় ও বিনিয়ােগ এই আয় অনুপাতের ওপর নির্ভরশীল । তাই অর্থনৈতিক বিকাশের হারে যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে , তার জন্য বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাহায্যে জাতীয় আয় বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয় । 

আর্থিক সংকট মোচন

দেশভাগের পর জাতীয় জীবনে তীব্র আর্থিক সংকট নেমে আসে । যুদ্ধ ও দেশভাগের ফলে মুদ্রাস্ফীতি , দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি , খাদ্যঘাটতি , কাঁচামালের অভাব প্রভৃতি কারণে দেশবাসী চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখােমুখি হয় । এই আর্থিক সংকট থেকে দেশবাসীকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় । 

জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন 

অর্থনৈতিক দুর্বলতার জন্য ভারতবাসীর জীবনযাত্রার মান ছিল অনুন্নত । স্বাধীনতার পর দেশে দরিদ্র জনগণের জীবনযাপনের ন্যূনতম চাহিদাগুলিকে পূরণ করে তাদের আরও উন্নত জীবনযাপনের সুযােগ করে দেওয়া ছিল পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য । 

কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটানাে 

স্বাধীনতার পর দেশজুড়ে মারাত্মক খাদ্য সংকট দেখা দেয় । দেশভাগের পর বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চাপ এই খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করে তােলে । এর মােকাবিলায় কৃষিজাত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি জমিকে সেচের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় । কৃষি উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় । সার্বিকরূপে কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি ঘটানাের জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গৃহীত হয় । 

শিল্পে অগ্রগতি ঘটানো 

ভারী ও যন্ত্রপাতি নির্মাণ শিল্পকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শিল্পায়নের গতি বাড়ানাের চেষ্টা করা হয় । এর পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পে কর্মসংস্থানের ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া হয় । বিভিন্ন জাতীয় শিল্পে সমৃদ্ধি ও শিল্পজাত পণ্যের মান উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় । 

বেকার সমস্যার সমাধান 

দেশভাগের পর ভারতে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে অন্যতম ছিল বেকার সমস্যা । উন্নয়নমূলক কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় । এর পাশাপাশি ভারী ও রাসায়নিক শিল্প , এমনকি কুটিরশিল্পের উন্নতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান নির্ধারণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয় । এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্যও গৃহীত হয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!