আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে গান্ধীজীর ভূমিকা

আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে গান্ধীজীর ভূমিকা 

59407233
আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলন

গান্ধীজী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনালগ্নে যে তিনটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন , সেগুলি ছিল চম্পারন , খেদা এবং আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলন । এই তিনটি আন্দোলনেই গান্ধীজী প্রথম সত্যাগ্রহ আদর্শের প্রয়ােগ ঘটান ও সফল হন । এই তিনটি আঞ্চলিক আন্দোলনে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে গান্ধীজী জাতীয় নেতা হিসেবে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ।

আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত

প্লেগবােনাস প্রত্যাহার করাকে কেন্দ্র করে আমেদাবাদের বস্ত্রশিল্প কারখানার মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরােধ বাঁধে ( ১৯১৮ খ্রি. ফেব্রুয়ারি ) । ইতিমধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধজনিত কারণে মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে শ্রমিকরা শতকরা ৫০ ভাগ মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানায় । এরকম সংকটজনক পরিস্থিতিতে আমেদাবাদ মিল মালিকের সভাপতি অম্বালাল সারাভাই ও আমেদাবাদের ব্রিটিশ কালেক্টর গান্ধীজীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করলে গান্ধীজী এই সংকট মেটানাের সিদ্ধান্ত নেন ।

গান্ধীজীর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন

শ্রমিকদের শতকরা ৫০ ভাগ মজুরি বৃদ্ধির পরিবর্তে মালিকপক্ষ শতকরা ২০ ভাগ মজুরি বৃদ্ধিতে রাজি হয় । কিন্তু এতে শ্রমিকশ্রেণি রাজি না হওয়ায় , গান্ধীজীর মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ মজুরিবৃদ্ধির বিষয়টি ট্রাইবুনালে পাঠানাের সিদ্ধান্তে রাজি হয় ।

গান্ধীজীর অনশন

অপ্রত্যাশিত ভাবে বিচ্ছিন্ন এক ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় । মালিকপক্ষ শতকরা কুড়ি ভাগের বেশি বােনাস দেবে না বলে ঘােষণা করে এবং হুমকি দেয় — যারা তা মানবে , তাদের বরখাস্ত করা হবে । এর প্রতিবাদে গান্ধীজীর পরামর্শে শ্রমিকশ্রেণি সংগঠিতভাবে ধর্মঘট শুরু করে । কিন্তু অচিরেই শ্রমিকদের ধর্মঘটে শিথিলতা দেখা দিলে গান্ধীজী অনশন ধর্মঘট শুরু করেন ( ১৯১৮ খ্রি. ১৫ মার্চ ) । গান্ধীজীর এই অনশনের ঘটনা ছিল , ভারতবর্ষের প্রথম অনশন ধর্মঘট ।

আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সফলতা

1. গান্ধীজীর অনশনের চতুর্থ দিনের মাথায় মিল মালিকরা শতকরা ৩৫ ভাগ মজুরি বৃদ্ধিতে রাজি হয় ।

2. গান্ধীজীর নেতৃত্বাধীন আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের পরিণতি হিসেবে পরবর্তী সময়ে গঠিত হয় ‘ টেক্সটাইল লেবার অ্যাসােসিয়েশন ’ ( ১৯২০ খ্রি. ) । পরবর্তীকালের রাজনীতিতে ‘ অনশন ধর্মঘট ’ এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে পরিগণিত হয় ।

মূল্যায়ন

চম্পারন , আমেদাবাদ ও খেদার আন্দোলন পরিচালনার মাধ্যমে গান্ধীজী দেশবাসীর সামনে অহিংস সত্যাগ্রহ আদর্শ মেলে ধরেন । আন্দোলনগুলির সফলতার দরুন গান্ধীজীর নেতৃত্বের সুনাম আঞ্চলিকতাবাদের গণ্ডি টপকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে । এ প্রসঙ্গে ড. বিপানচন্দ্র  বলেছেন — যথা সময়ে তিনি ( গান্ধীজী ) দরিদ্র , জাতীয়তাবাদী ও বিদ্রোহী ভারতের প্রতীক হয়ে ওঠেন । ( ‘ In time he became the symbol of poor India , nationalist India and rebellious India ’. )।

Leave a Comment

error: Content is protected !!