আইন অমান্য আন্দোলনে জনসাধারণের ভূমিকা

আইন অমান্য আন্দোলনে জনসাধারণের ভূমিকা

sarojini naidu in bombay 1946 02 1488454020
সরোজিনী নাইডু

ভারতে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের পরিচালনায় যে আইন অমান্য আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার সূত্রপাত করেন মহাত্মা গান্ধি স্বয়ং । ১২ মার্চ ( ১৯৩০ খ্রি. ) সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ গুজরাতের সবরমতি আশ্রম থেকে ৭৯ জন অনুগামী নিয়ে তিনি ২৪১ মাইল পথ ২৪ দিনে অতিক্রম করে ৫ এপ্রিল ক্যাম্বে উপসাগরের তীরে ডান্ডি গ্রামে পৌছান । ৬ এপ্রিল ভােরে আরব সাগরে স্নান করে সাগরের জল থেকে লবণ প্রস্তুত করেন ও আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা ঘটান । 

আইন অমান্য আন্দোলনে বাংলার জনগণের ভূমিকা

লবণ আইন ভঙ্গ :

বাংলার ২৪ পরগনা জেলার মহিষবাথান , নীলা , কালিকাপুর , ডায়মন্ডহারবার এবং মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমায় বিরাট আকারে লবণ আইন ভঙ্গ করা হয় । কাঁথি মহকুমার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে লবণ আইন ভঙ্গ করার জন্য কর্মী শিবির স্থাপিত হয় এবং নিয়মিত ভাবে লবণ সত্যাগ্রহ চলতে থাকে ।

অন্যান্য আইন ভঙ্গে : 

পাশাপাশি সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের অভ্যন্তর ভাগে অন্যান্য আইন ভঙ্গ করার কর্মপদ্ধতি গৃহীত হয় । কলকাতার মেয়র যতীন্দ্রমােহন সেনগুপ্ত প্রকাশ্য জনসভায় ব্রিটিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ গ্রন্থ পাঠ করে রাজদ্রোহ আইন ভঙ্গ করেন । যশােহর , বাঁকুড়া , ২৪ পরগনায় ইউনিয়ন বাের্ড – বিরােধী আন্দোলন শুরু হয় । কাঁথি , আরামবাগ , বালুরঘাট প্রভৃতি স্থানে কর বর্জন আন্দোলন শুরু হয় । 

আইন অমান্য আন্দোলনে অন্যান্য অঞ্চলের জনগণের ভূমিকা

মধ্যপ্রদেশ ও বােম্বাইয়ে : 

মধ্যপ্রদেশ ও বােম্বাই অঞ্চলে বন সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে দলে দলে সত্যাগ্রহীরা সরকারি বনাঞ্চল থেকে ঘাস ও শুকনাে কাঠ কেটে আইন অমান্য করেন । বােম্বাইয়ে সমানে পিকেটিং চলতে থাকে ।

বিহারে : 

বিহারের চম্পারন , সারন , মুঙ্গের , পাটনা , শাহাবাদ প্রভৃতি স্থানে বিদেশি বস্ত্র ও মাদক দ্রব্য বিক্রির বিরুদ্ধে পিকেটিং চলে ।

গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশে : 

গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশে কর ও খাজনা বন্ধের আন্দোলন শুরু হয় ।

মাদ্রাজ ও ওড়িশায় : 

মাদ্রাজে চক্রবর্তী রাজাগােপালাচারী ও ওড়িশায় ‘ উৎকলমণি ’ গােপবন্ধু চৌধুরীর নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন যথার্থ গণ আন্দোলনে পরিণত হয় ।

উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে : 

উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে খ্যাতনামা পাঠান নেতা খান আবদুল গফফর খান – এর অসাধারণ নেতৃত্বে যুদ্ধবাজ পাঠানরাও আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে । তারা সরকারি খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দিলে এই আন্দোলন সেখানে প্রবল আকার ধারণ করে । 

আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা

উল্লেখযােগ্য যে , এই আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছিলেন । ১০ এপ্রিল ( ১৯৩০ খ্রি. ) ‘ ইয়ং ইন্ডিয়া ‘ পত্রিকায় গান্ধিজি নারী সমাজকেও এই আন্দোলনে শামিল হতে আহ্বান জানান । ফলে এত অধিক সংখ্যায় মহিলারা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন যে , ইতিপূর্বে আর কোনাে আন্দোলনে তা দেখা যায়নি । হাজার হাজার ভারতীয় নারী এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন । শুধুমাত্র দিল্লি শহরেই ১৬০০ মহিলা আইন অমান্য করে গ্রেফতার হন । কস্তুরবা গান্ধি , কমলা নেহরু , বাসন্তী দেবী , নেলী সেনগুপ্ত , সরোজিনী নাইডু , সরলাবালা দেবী প্রমুখ বিশিষ্ট মহিলা এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন ।

1 thought on “আইন অমান্য আন্দোলনে জনসাধারণের ভূমিকা”

Leave a Comment

error: Content is protected !!