রুশ বিপ্লবে বলশেভিকদের সাফল্যের কারণ কী

রুশ বিপ্লবে বলশেভিকদের সাফল্যের কারণ কী 

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অক্টোবর ( ইংরেজি ৭ নভেম্বর ) লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক দল রাশিয়াতে ক্ষমতা দখল করে । সফল হয় রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব । সুগঠিত , সুশৃঙ্খল দল , যােগ্য নেতৃত্বের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি ( objective Condition ) – কে কাজে লাগিয়ে বলশেভিকরা বিপ্লবে সাফল্য লাভ করে ।

image
বলশেভিকদের সাফল্য

রুশ বিপ্লবে ( ১৯১৭ খ্রি. ) বলশেভিকদের সাফল্যের মূলে নানা কারণ কাজ করেছিল । ওইসব কারণগুলির মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল 一

উচ্চতর আদর্শ 

বিপ্লবীদের প্রধান প্রতিপক্ষ জার সরকারের প্রতি রুশ জনতার কোনাে আস্থা ছিল না । প্রাথমিক বিপ্লবের পর গঠিত কেরেনস্কির অস্থায়ী সরকারও দেশের ভেঙে পড়া সমাজ ও অর্থব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হয় । এমতাবস্থায় বলশেভিক দল সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রচার করে । সম্পদের সমবণ্টন নীতি শােষিত মানুষকে আশাবাদী করে তােলে । ফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ বিপ্লবের সমর্থকে পরিণত হন । এই বিপুল গণসমর্থন বিপ্লবকে সফল হতে সাহায্য করে । 

শ্রমজীবী শ্রেণির সমর্থন

বলশেভিক বিপ্লবের প্রধান শক্তি ছিল শ্রমিক ও কৃষকশ্রেণি । ‘ শৃঙ্খল ছাড়া কিছুই হারানাের নেই ’ বিপ্লবের এই বাণী সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণিকে মরিয়াভাবে বিপ্লবমুখী করেছিল । তাদের আপসহীন সংগ্রামী মানসিকতা বলশেভিকদের অপ্রতিরােধ্য করে তুলেছিল ।

সেনা বিদ্রোহ 

স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার প্রধান উৎস হল শাসকের ব্যক্তিত্ব ও যােগ্যতা । কিন্তু রুশ বিপ্লবের প্রাক্কালে রাশিয়ার জারেরা ছিলেন ব্যক্তিত্বহীন , অযােগ্য , অপদার্থ । জন সমর্থনের বদলে সেনাবাহিনীই ছিল তাঁদের স্বৈরাচারের প্রধান স্তম্ভ । প্রাক্ – বিপ্লবকালে এই সেনাবাহিনীর একটা বিশাল অংশ জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বিদ্রোহী জনগণের পক্ষে যােগদান করে বলশেভিকদের সাফল্যকে নিশ্চিত করে তােলে । 

আর্থিক দুর্দশা

খাদ্যাভাব , নিত্য প্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদির দুষ্প্রাপ্যতা , সর্বোপরি প্রথম বিশ্বযুদ্ধজনিত ব্যয়ভার কেরেস্কি সরকারের অবস্থাকে সঙ্গিন করে তােলে । কৃষক – শ্রমিক – সৈনিকসহ সমাজের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ ওই দুর্বল সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে । 

লেনিনের নেতৃত্ব 

লেনিনের সুযােগ্য নেতৃত্বে বলশেভিক দল শান্তি , রুটি ও জমির স্লোগান দিয়ে সৈনিক , শ্রমিক ও কৃষকদের নিজেদের দিকে টেনে আনতে সক্ষম হয় — সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাদের গ্রহণযােগ্যতা স্বীকৃত হয় । লিও ট্রটস্কি বিপ্লবে লেনিনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছিলেন — বিপ্লব চলাকালীন দেখা গেল ব্যক্তির ভূমিকা কিছুমাত্র কম নয় । 

বিপ্লব – বিরােধীদের অনৈক্য 

বিপ্লব – বিরােধী শক্তিগুলি নানা দল ও উপদলে বিভক্ত থাকায় তাদের আদর্শের সঙ্গে কর্মপন্থার নানা ফারাক ছিল । তাদের ওই অনৈক্য ও মতভেদ নানাভাবে বলশেভিকদের সাফল্য লাভে সাহায্য করেছিল । আধুনিক উন্নত রণকৌশলে প্রশিক্ষিত এক লক্ষ লাল ফৌজ ট্রটস্কির নেতৃত্বে যুদ্ধে শ্বেত বাহিনীর বিরুদ্ধে পারদর্শিতার পরিচয় দেয় । তাদের দক্ষ রণকৌশলের কাছে একদিকে যেমন বিদেশি সেনারা পর্যদস্ত হয় , অপরদিকে তেমন অতি সহজেই গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে । 

উপসংহার 

বহুমুখী রাজনৈতিক , আর্থিক ও সামাজিক উপাদান বলশেভিক বিপ্লবীদের শক্তি সংহত করে সাফল্য ছিনিয়ে নিতে সাহায্য করে । প্রায় রক্তপাতহীন বলশেভিক বিপ্লবীদের সাফল্য বিশ্বের শােষিত ও পরাধীন জাতি সমূহের কাছে নবযুগের বার্তা পৌঁছে দেয় । ‘ জনশক্তি ’ – ‘ অর্থশক্তি ’ – ‘ সামরিক শক্তি ’ একত্রিত হওয়ার ফলে বলশেভিকদের সাফল্য অনিবার্য হয়ে ওঠে ।

2 thoughts on “রুশ বিপ্লবে বলশেভিকদের সাফল্যের কারণ কী”

    • বলশেভিকদের স্লোগান ছিল ” খাদ্য , শান্তি ও জমি “।

      Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!