ইয়ং পরিকল্পনা কি

ইয়ং পরিকল্পনা কি

বিজয়ী শক্তিবর্গ ভার্সাই সন্ধিতে অযৌক্তিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য জার্মানিকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণের দায় চাপিয়ে দেয় । এই ক্ষতিপূরণ সমস্যায় জার্মানি জর্জরিত হয়ে পড়ে । এই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে দুটি প্রধান পদক্ষেপ ছিল ডয়েস পরিকল্পনা এবং ইয়ং পরিকল্পনা । 

ইয়ং কমিটি গঠনের কারণ 

1. জার্মানি ক্ষতিপূরণের যৌক্তিকতা নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানায় এবং রাইনল্যান্ড অঞ্চল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ।  

2. জার্মানি আমেরিকার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণ নেওয়ায় , আমেরিকাও ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করে । 

3. এই অবস্থায় লােকার্নো চুক্তি স্বাক্ষর ( ১৯২৫ খ্রি. ) এবং জাতিসংঘে জার্মানির সদস্যপদ লাভ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন আবহাওয়ার সৃষ্টি করে । 

4. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স , জার্মানির কাছ থেকে আর্থিক পাওনার বিষয়টি দ্রুত মেটাতে চাইলে ডয়েস পরিকল্পনার পুনর্বিবেচনার বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়ে ।

ইয়ং কমিটি গঠন 

ডয়েস পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার লক্ষ্যে মার্কিন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আওয়েন ইয়ং এর নেতৃত্বে ইয়ং কমিটি গঠিত হয় । ব্রিটেন , ফ্রান্স , ইতালি , জাপান ও বেলজিয়াম এই পাঁচটি দেশের দুজন করে প্রতিনিধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন প্রতিনিধি অর্থাৎ মােট ১২ জন প্রতিনিধি নিয়ে ‘ ইয়ং কমিটি ’ গঠিত হয় । 

ইয়ং কমিটির পরিকল্পনা সমূহ

আওয়েন ইয়ং – এর নেতৃত্বে গঠিত ইয়ং কমিটি ক্ষতিপূরণ সমস্যার সমাধানের জন্য প্যারিসে মিলিত হয়ে যে পরিকল্পনা পেশ করেছিল ( ১৯২৯ খ্রি. ৭ জুন ) তা ইয়ং পরিকল্পনা নামে পরিচিত । এতে বলা হয় —

1. জার্মানি ৩৭ বছর ধরে ( ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ) ৩৭ টি কিস্তিতে গড়ে ১০ কোটি পাউন্ড দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ পরিশােধ করবে । 

2. জার্মানিকে যুদ্ধ ব্যয় হিসেবে ২২ টি বার্ষিক কিস্তিতে সামান্য পরিমাণ অর্থ দিতে হবে । 

3. জার্মানির প্রদেয় অর্থকে স্থগিতযােগ্য এবং অস্থগিতযােগ্য এই দুভাগে ভাগ করা হয় । 

4. বার্ষিক কিস্তির ( ১০ কোটি পাউন্ড ) ১/৩ ভাগ জার্মানিকে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশােধ করতে হবে । জার্মানি প্রয়ােজনে বাকি ২/৩ ভাগ অর্থ দু – তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখতে পারবে । 

5. ক্ষতিপূরণ গ্রহণ এবং মিত্ররাষ্ট্রগুলির মধ্যে তা বণ্টনের দায়িত্ব থাকবে নবগঠিত Bank of International Settlements বা আন্তর্জাতিক ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর । 

6. ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুনের মধ্যে মিত্রপক্ষকে রাইন অঞ্চল পরিত্যাগ করতে হবে । 

7. ক্ষতিপূরণ কমিশনকে উচ্ছেদ করা হবে । 

8. ক্ষতিপূরণ করতে জার্মানি ইচ্ছা করে দেরি করলে বা ক্ষতিপূরণ না দিলে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের নির্দেশে যে – কোনাে বৃহৎ রাষ্ট্র জার্মানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে । 

ইয়ং পরিকল্পনার ফলাফল বা পরিণতি

প্রথমত , জার্মানি , ব্রিটেন , ফ্রান্স , ইতালি প্রভৃতি দেশ হেগ সম্মেলনে ( ১৯২৯-৩০ খ্রি. ) মিলিত হয়ে ইয়ং পরিকল্পনার শর্তগুলি মেনে নেয় । 

দ্বিতীয়ত , ইয়ং কমিটি ব্রিটিশ চ্যান্সেলার অব এক্সচেকার ফিলিপ স্নােডাউনের অধিক অর্থের দাবি মেনে নেয় এবং জার্মানির ক্ষতিপূরণ অর্থ হ্রাসের দাবি অগ্রাহ্য করে । 

তৃতীয়ত , ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়লে জার্মানির পক্ষে ঋণ সংগ্রহ করা আর সম্ভব হয় না । ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে জার্মানি ঋণ পরিশােধ বন্ধ করে দেয় । 

চতুর্থত , আন্তর্জাতিক ব্যাংকের উপদেষ্টা কমিটি জার্মানির পক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয় ঘােষণা করলে ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে ছেদ পড়ে যায় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!