নরম পন্থী / মডারেট কাদের বলা হয়

নরম পন্থী / মডারেট কাদের বলা হয়

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রথম ২০ বছর ( ১৮৮৫ – ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ) কংগ্রেসের কার্যভার ছিল নরম পন্থী বা মডারেটদের হাতে । ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাসী মডারেটরা ব্রিটিশের সঙ্গে সরাসরি কোনাে সংঘর্ষে না গিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আবেদন – নিবেদন নীতির মাধ্যমে দেশবাসীর জন্য বিভিন্ন সুযােগসুবিধা আদায় করতে চেয়েছিলেন ।

index 2
উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

নরম পন্থী / মডারেট নেতৃবৃন্দ

উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় , দাদাভাই নওরোজি , বদরুদ্দীন তায়েবজি , গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত , দীননাথ ওয়াচা , মদনমোহন মালব্য , ফিরোজ শাহ মেহতা প্রমুখ ছিলেন ওই সময়ের প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা । প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেসের নরমপন্থীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে অধ্যাপক বিপান চন্দ্র বলেছেন — ১৮৮৫ – ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ‌ পর্যন্ত সময়কাল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজবপনের কাল এবং প্রথম পর্বের জাতীয়তাবাদীরা যথার্থভাবেই সেই কাজটি করেছেন ।

নরম পন্থী / মডারেটদের কার্য পদ্ধতি — আবেদন নিবেদন নীতি

প্রথম যুগের কংগ্রেস নেতাদের কার্যাবলি আবেদন নিবেদন নীতির ওপর নির্ভরশীল ছিল । এ সময়ে নরম পন্থী বা মডারেটরা তিনটি নীতি মেনে চলতেন । একে বলা হত — ‘ A policy of 3 P’s ‘ এই তিনটি P – এর অর্থ ‘ prayer , Please , Petition । এ সময়কার কর্মপদ্ধতি ছিল সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা এবং সামাজিক , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কার সাধনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন করা । বাৎসরিক অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তুাবগুলি বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হতো । রাসবিহারী ঘোষ বলেছিলেন –আমাদের অপেক্ষা করার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং যথা সময়ে সবকিছু আসবে।

নরমপন্থীদের / মডারেটদের উদ্দেশ্য

বোম্বাইয়ের গোকুল দাস তেজপাল সংস্কৃত হলে অনুষ্ঠিত ( ১৮৮৫ খি. ২৮-৩০ ডিসেম্বর ) জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে নরম পন্থী নেতা উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন —

ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ করা :

ভারতবাসীকে  জাতীয়তাবোধের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করা ।

জাতীয় চেতনার বিকাশ :

জাতির মানসিক , নৈতিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটানাে ।

দাবি পেশ :

প্রথম অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবগুলি ব্রিটিশের কাছে দাবিরূপে পেশ করা ।

সমালোচনা

নরমপন্থী বা মডারেটদের কার্যাবলি বিভিন্ন ভাবে সমালােচিত হয়েছে । মডারেটদের ভীতু কাপুরুষ ও তাদের কাজকে রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে । কিন্তু মডারেটদের এতটা সমালােচনা প্রাপ্য নয় । সমালোচনার উত্তরে গােপালকৃষ্ণ গােখলে বলেছিলেন — আমরা ভিক্ষুক নই এবং ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের নীতি নয় (‘ we are not beggars and our policy is not that of mendicancy ‘)।

Leave a Comment

error: Content is protected !!