নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন / অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন / অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন

সংবাদপত্রের মতােই সমকালীন নাটকগুলিও জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশে সাহায্য করেছিল । গ্ৰাম বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নাটকগুলিতে ভারতবাসীর দরিদ্রতা , ব্রিটিশের আর্থিক শােষণ , অত্যাচার ও নিপীড়ণের কাহিনি তুলে ধরা হলে জনমানসে ব্রিটিশ বিরােধী প্রতিক্রিয়া তীব্র হয় । ব্রিটিশ সরকার সাধারণ ভারতবাসীর ওপর নাটকগুলির প্রভাব দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়ে । বড়লাট নর্থব্রূক নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের মাধ্যমে নাটক প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ( ১৮৭৬ খ্রি. ১৪ মার্চ ) ।

Dinabandhu Mitra 1830 1873 1
দীনবন্ধু মিত্র

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন জারির মাধ্যমে বলা হয় —

  1. নাটক প্রদর্শিত হওয়ার আগে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে সেই নাটকের পাণ্ডুলিপি জমা দিতে হবে ।
  2. পুলিশ কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তবেই সেই নাটক মঞ্চস্থ হবে ।
  3. জাতীয়তাবােধের বিকাশে সাহায্য করে এমন নাটক মঞ্চস্থ করা চলবে না ।

বিভিন্ন নাটকের স্বদেশপ্রেম

দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকটিতে যেভাবে হতদরিদ্র সাধারণ নীলচাষিদের  ওপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচার দেখানাে হয়েছিল তাতে আপামর ভারতবাসী শিহরিত হয়ে উঠেছিল । মীর মােশারফ হােসেনের জমিদার দর্পণ ( ১৮৭৩ খ্রি. ) ; উপেন্দ্রনাথ দাসের শরৎ সরােজিনী ( ১৮৭৪ খ্রি. ) এবং সুরেন্দ্র বিনােদিনী ( ১৮৭৫ খ্রি. ) ; জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সরােজিনী , অশ্ৰুমতী , স্বপ্নময়ী ; রমেশচন্দ্র দত্তের মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত ( ১৮৭৮ খ্রি. ) ; গিরিশচন্দ্র ঘােষের সিরাজদৌলা ও মীরকাশিম ; দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতাপ সিংহ , মেবারের পতন , সাজাহান ইত্যাদি নাটক সে – সময়ে স্বদেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটায় ।

প্রতিক্রিয়া

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়ােগ করা হয়েছিল বেছে বেছে সেইসব নাটকগুলির ওপর , যেগুলি জাতীয়তাবােধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলেছিল । এই আইনের বিরুদ্ধে সারাদেশে ঝড় ওঠে । বিচারপতি দ্বারকানাথ মিত্রের ভবানীপুরের বাড়িতে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দুশাে জনের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় । এই সভায় এক প্রস্তাব গ্রহণ করে বলা হয় আইন সভায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠানাে হবে । কলকাতা  ছাড়াও ভারতের লক্ষ্ণৌ , কানপুর ও এলাহাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় এই আইনের বিরুদ্ধে জনসমাবেশ ঘটে । অবশেষে জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় লর্ড রিপন এই আইনটি শিথিল করেছিলেন ।

মন্তব্য

নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসােসিয়েশন , ভারতসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বেঙ্গলি ও সাধারণী পত্রিকা সরব হয় । ব্রিটিশের নিষেধ অমান্য করে নাটক মঞ্চস্থ করার অপরাধে প্রখ্যাত নট অমৃতলাল বসু ও আরও অনেকে কারাদণ্ড ভােগ করেন । নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন পরােক্ষভাবে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তুলে জাতীয়তাবােধ বৃদ্ধিতে সাহায্যই করেছিল ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!