জায়গীর ও জায়গীরদার বলতে কী বোঝো

জায়গীর ও জায়গীরদার বলতে কী বোঝো

images
জায়গীর ও জায়গীরদার

মুঘল সাম্রাজ্যের বৃহত্তর অংশের ভূমি রাজস্ব আদায়ের ভার সরকার নিজের হাতে না রেখে নির্বাচিত ব‍্যক্তির ওপর ন্যস্ত করত । এইসব হস্তান্তরিত জমিকে বলা হয় জায়গীর । যারা জায়গির ভােগ করত তাদের বলা হত জায়গীরদার । জায়গীরদার ভূমি – রাজস্ব ছাড়াও কৃষকদের কাছ থেকে আবওয়ার বা অতিরিক্ত কর আদায় করত ।

বিভিন্ন প্রকার জায়গীর

তনখা জায়গীর

সরকারি কর্মচারীর একটি বৃহৎ অংশ নগদ বেতনের পরিবর্তে জায়গীর জমি ভােগ করত । এই জায়গীরকে বলা হত তনখা জায়গীর । জায়গীরদার তার নির্দিষ্ট বরাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করতেন এবং স্থানীয় প্রশাসন চালাতেন । আদায় করা রাজস্ব থেকে নিজের বেতন বাবদ অর্থ কেটে রেখে উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় রাজকোশে জমা দিতেন । তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জায়গীরদাররা হিসেবের কারচুপি করতেন ।

ওয়াতন জায়গীর

জমিদারদের সঙ্গে জায়গীরদারের মৌলিক পার্থক্য ছিল । জমিদাররা বংশানুক্রমে কিছু জমি ভােগ করতেন , তাকে বলা হত ওয়াতন জায়গীর । জমিদারদের জমি থেকে উৎখাত করার অধিকার আইনত সম্রাটের হাতে ছিল না । জমিদার তাঁর অংশের রাজস্ব আদায় করতেন ও ভােগ করতেন । নানাভাবে তারা প্রশাসনকে সাহায্য করতেন । আবার কিছু জমিদার সরকারের খালিসা জমির রাজস্ব আদায়ের কাজ সম্পন্ন করতেন । এজন্য তাঁরা পারিশ্রমিক পেতেন ।

মাশরুত জায়গীর

কিছু জমি বিশেষ ব্যক্তিকে বিশেষ পদের জন্য দেওয়া হত , তাকে বলা হত মাশরুত জায়গীর ।

ইনাম জায়গীর

বেতনের পরিবর্তে বা পদের জন্য নয় এমন কিছু জমি বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিকে বরাদ্দ করা হত , তার নাম ছিল ইনাম জায়গীর ।

‘ ওয়াতন জায়গীর ’ ছাড়া সবরকম জায়গীর বরাদ্দ করা কিংবা প্রত্যাহার করা সম্পূর্ণভাবে সম্রাটের ইচ্ছাধীন ছিল । জমির ওপর জায়গীরদারের কোনাে দাবি স্বীকৃত ছিল না । মনসবদারদের কেউ কেউ নগদ অর্থে বেতন পেতেন । তবে অধিকাংশ মনসবদার বেতন হিসেবে জায়গির ভােগ করতেন । এইভাবে মনসবদাররা ‘ জায়গীরদারে ’ পরিণত হন ।
মনসবদার পদ ও জায়গীর ছিল অনিশ্চিত । সম্রাট ইচ্ছানুযায়ী মনসবদারকে পদচ্যুত বা তার জায়গীর পরিবর্তন করতে পারতেন ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!