এমস টেলিগ্রাম বলতে কী বোঝো

Contents

এমস টেলিগ্রাম বলতে কী বোঝো

১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়ার মধ্যে স্যাডােয়ার যুদ্ধের পর জার্মানির ঐক্যের কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রাশিয়ার যুদ্ধ ছিল একটি অনিবার্য ব্যাপার । তার ওপর ফরাসিরা স্যাডােয়ায় অস্ট্রিয়ার পরাজয়কে নানা কারণে নিজেদের পরাজয় বলেই মনে করতে থাকে । এইরকম এক উত্তপ্ত অবস্থায় স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারের প্রশ্নে শুরু হয় ফ্রান্স ও প্রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ । বিসমার্কের অর্থ ও প্ররােচনায় স্পেনের পার্লামেন্টের সদস্যরা ইসাবেলার বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহে মদত দেন । ফলে রানি ইসাবেলা সিংহাসনচ্যুত হন ( ১৮৬৮ খ্রি. ) । এরপর স্পেনবাসী প্রাশিয়ার রাজবংশ হােহেনজোলার্ন বংশীয় প্রিন্স লিওপােন্ডকে তাদের রাজপদ গ্রহণে অনুরােধ জানান । ফ্রান্স এর তীব্র প্রতিবাদ করে । এরই প্রেক্ষিতে ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপােলিয়ন প্রাশিয়ার রাজার কাছে কাউন্ট বেনিদিতি নামে তাঁর একজন দূত পাঠান । উদ্দেশ্য ছিল প্রাশিয়ার রাজবংশের কেউ কোনােদিনও স্পেনের সিংহাসনে বসবেন না , এই মর্মে প্রাশিয়া রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি আদায় করা ।

20797 126063842129
বিসমার্ক

পরিচিতি

প্রাশিয়া রাজ প্রথম উইলিয়ম তখন এমস শহরে বিশ্রামরত ছিলেন । বেনিদিতি রাজার কাছে তাঁর দৌত্যের উদ্দেশ্য জানালে উইলিয়ম বেনিদিতিকে ওই ব্যাপারে কোনােরকম প্রতিশ্রুতি দিতে অপারগ হন এবং পুরাে ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী বিসমার্ককে ১৩ জুলাই ( ১৮৭০ খ্রি. ) তারযােগে জানিয়ে দেন । এটিই এমস টেলিগ্রাম নামে ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে ।

পরিণতি

বিসমার্ক টেলিগ্রামটির কিছু শব্দ বাদ দিয়ে ১৪ জুলাই সেটিকে এমনভাবে সাজিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশ করেন , যাতে মনে হয় প্রাশিয়া রাজ ফরাসি দূতকে অপমান করেছেন । ফরাসিরা এটিকে ‘ জাতীয় অপমান ’ বলে মনে করে প্রতিশােধ গ্রহণে ব্যগ্র হয়ে ওঠে এবং পরের দিনই ( ১৮৭০ খ্রি. ) ১৫ জুলাই ফ্রান্স প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা করেছিল । ফ্রান্সের এই যুদ্ধ ঘােষণার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিসমার্ক বলেছিলেন — লাল কাপড় দেখে ফরাসি ষাঁড় ক্ষেপে গেছে (‘ Bismarck showed the red rag Gallic ( France ) bull ’) ।

উপসংহার

সুচতুর বিসমার্কের চাতুরীতে এমস টেলিগ্রাম যেভাবে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে ফরাসিবাসী স্বাভাবিকভাবেই তাদের রাষ্ট্রদূতের অবমাননা হয়েছে ধরে নিয়েছিল । আসলে কিন্তু এ ধরনের কোনাে ঘটনা ঘটেনি । প্রাশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়ম ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অত্যন্ত সৌজন্যমূলক ব্যবহার করেছিলেন । সংবাদ পত্রেই এমনভাবে সাজিয়ে বিসমার্ক সমস্ত ঘটনাটি পরিবেশন করেছিলেন , যার ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছিল । তাই ডেভিড টমসন  বলেছিলেন — আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এর আগে কখনােই সংবাদ মাধ্যম এত শক্তিশালী নাটকীয় ভূমিকা পালন করেনি (‘ Never before had the power of press played so dramatic a part in international diplomacy ’)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!