ত্রিশক্তি সংগ্রাম

ত্রিশক্তি সংগ্রাম

ত্রিশক্তি সংগ্রাম এর কারণ

পাল-প্রতিহার-রাষ্ট্রকূট এই ত্রিশক্তির সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কনৌজ । পুষ্যভূতি বংশ এবং মৌখরী রাজবংশের শাসনকালে কনৌজের রাজনৈতিক গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায় । কনৌজ সার্বভৌমত্বের আসন ও প্রতীক হিসেবে মর্যাদা পেতে থাকে । কনৌজ দখলে থাকলে গাঙ্গেয় উপত্যকার উর্বর ভূমি এবং তার বিশাল ভূ-সম্পদ ভােগ করা যেত । এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে কনৌজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী ত্রিশক্তি সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিল ।

ত্রিশক্তি সংঘর্ষের কয়েকটি পর্যায় লক্ষ করা যায়—

প্রথম পর্ব :

এই যুদ্ধে পালরাজ ধর্মপাল প্রতিহাররাজ বৎসের কাছে পরাজিত হন । প্রতিহারদের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য রাষ্ট্রকূটরাজ ধ্রুব বৎসকে আক্রমণ করেন । বৎস পরাজিত হয়ে রাজপুতানায় পালিয়ে যান । অতঃপর তিনি ধর্মপালকেও পরাজিত করেন । কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ধ্রুব দক্ষিণ ভারতে ফিরে যান । সেই সুযােগে ধর্মপাল কনৌজের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন ।

দ্বিতীয় পর্ব :

পরবর্তী প্রতিহাররাজ দ্বিতীয় নাগভট্ট পুনরায় কনৌজ দখল করে নিলে এবং মুঙ্গেরের যুদ্ধে ধর্মপালকে পরাজিত করলে আবার ত্রিশক্তি সংঘর্ষ শুরু হয় । অবশ্য অল্পদিনের মধ্যেই তৃতীয় গােবিন্দ আক্রমণ করে দ্বিতীয় নাগভট্টকে পরাজিত ও বিতাড়িত করে দাক্ষিণাত্যে ফিরে যান । অতঃপর উক্ত অঞ্চলে ধর্মপালের কর্তৃত্ব অব্যাহত থাকে ।

তৃতীয় পর্ব :

প্রতিহাররাজ মিহিরভােজের আমলে আবার পাল-প্রতিহার সংঘর্ষ শুরু হয় । তখন পালরাজা ছিলেন দেবপাল । শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিহারদের পরাজিত ও বিতাড়িত করতে সক্ষম হন ।

ত্রিশক্তি সংগ্রাম এর ফলাফল

এরপরও তিন শক্তির মধ্যে সংগ্রাম অব্যাহত ছিল । প্রায় দুশাে বছর ধরে এই সংগ্রাম চলেছিল । দীর্ঘস্থায়ী ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী । এর ফলে তিনটি শক্তিরই ক্ষতি হয়েছিল । দীর্ঘকাল সংগ্রামে লিপ্ত থাকার ফলে প্রত্যেকেরই সৈন্য ও অর্থক্ষয় ঘটেছিল । যুদ্ধের বিপুল ব্যয় সামাল দিতে প্রত্যেককেই জনগণের উপর করের বোঝা বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল । তাছাড়া তিনটি শক্তির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সুযোগে সামন্ত রাজারা স্বাধীনতাকামী হয়ে উঠেছিল ।

এই দুর্বলতার সুযােগে তুর্কিরা ভারত আক্রমণ করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে

Leave a Comment

error: Content is protected !!