শিক্ষাক্ষেত্রে মনোযোগের ভূমিকা

Contents

শিখনে মনোযোগের ভূমিকা | শিক্ষাক্ষেত্রে মনোযোগের ভূমিকা

মনোযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাকালীন মানসিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে । মনোযোগের দ্বারাই আত্ম প্রচেষ্টামূলক শিখন সম্ভব হয় । মনোযোগ শিক্ষার্থীকে কোনো বিষয়ে স্পষ্টতা এবং বোধগম্যতায় সাহায্য করে । তাই শিক্ষায় মনোযোগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । শিক্ষা ক্ষেত্রে মনোযোগের ভূমিকা হল –

বিষয় বস্তুর স্পষ্টতা বৃদ্ধি 

মনোযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বিষয়বস্তুর স্পষ্ট বা নিখুঁত জ্ঞান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । কারণ মনোযোগ দিয়ে কোনো বিষয় অধ্যয়ন করলে সেই বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা হয় । 

জ্ঞানমূলক বিকাশ ত্বরান্বিত 

মনোযোগ জ্ঞানমূলক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে । অর্থাৎ , কোনো বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান তার জ্ঞানের বিকাশে অনেক বেশি সাহায্য করে । 

জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সক্রিয়তা বৃদ্ধি 

মনোযোগের ফলে জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বেশি সংখ্যক তথ্য বা বিষয় স্মৃতিতে ধরে রাখা সম্ভব হয় ।

পারদর্শিতা বৃদ্ধি 

মনোযোগ শিক্ষার্থীর বা ব্যক্তির পারদর্শিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । শিক্ষার্থী যে বিষয় মনোযোগ সহকারে আয়ত্ত করে সেই বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয় । এর ফলে তার পারদর্শিতার মাত্রা বৃদ্ধি পায় । 

সহজাত প্রবৃত্তির বিকাশ 

মনোযোগ ব্যক্তির সহজাত প্রবৃত্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । সহজাত প্রবৃত্তির বিকাশের ফলে ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের বিকাশ ঘটে । 

বস্তুকেন্দ্রিক সেন্টিমেন্ট গড়ে ওঠে 

মনোযোগ ব্যক্তির মধ্যে বস্তুকেন্দ্রিক সেন্টিমেন্ট গড়ে তোলে । শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেন্টিমেন্ট নিয়ন্ত্রিত স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগের সৃষ্টি করে । যা শিক্ষার্থীর জীবনব্যাপী শিখনে সহায়তা করে । 

বিচার ক্ষমতা বৃদ্ধি 

মনোযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিচারশক্তির বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । মনোযোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়জ্ঞান পরিষ্কার হয় বলে যুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় , যা বিচার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । 

স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী 

মনোযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল স্মৃতি । যে বিষয়ে যত বেশি মনোযোগ দেওয়া হয় সেই বিষয়ে তত বেশি মনে থাকে । তাই শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ গ্রহণের সময় সক্রিয়ভাবে মনোযোগ দেয় তবে সেই স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয় । 

সৃজন ক্ষমতার বিকাশ 

মনোযোগ শিক্ষার্থীকে সৃজনধর্মী করে তোলে । মনোযোগ দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থী নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে । আর এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সৃজনধর্মী ক্ষমতার বিকাশ ঘটে । 

আগ্রহ বৃদ্ধি 

মনোযোগ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে । আবার আগ্রহ শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তোলে । 

মনোযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাকালীন মানসিক সক্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । তাই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের সময় সেইসব কৌশলগুলি প্রয়োগ করবেন যা শিক্ষার্থীকে মনোযোগী করে তুলবে । এই প্রসঙ্গে কবির ভাষায় বলতে পারি , “ মন দিয়ে কারো সবে বিদ্যা উপার্জন , সকল ধনের সার বিদ্যামহাধন ” ।

error: Content is protected !!