সাধারণ শিক্ষা কি

সাধারণ শিক্ষা কি

যে শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির চারিত্রিক , নৈতিক , সামাজিক , আধ্যাত্মিক , নান্দনিক ইত্যাদি সমস্ত দিকের সুষম বিকাশ ঘটে , তাকেই সাধারণ শিক্ষা বা সাধারণধর্মী শিক্ষা বলে ।

সাধারণ শিক্ষা

পেজ এবং থমাস ‘ ইনটারন্যাশনাল ডিকশনারি অব্ এডুকেশন ‘ -এ সাধারণধর্মী শিক্ষার যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা হল — যে শিক্ষায় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি সকলের কাছে একই রকমের , তাকে বলে সাধারণধর্মী শিক্ষা । 

সাধারণ শিক্ষার বৈশিষ্ট্য 

সাধারণ শিক্ষার অর্থ ও ধারণা বিশ্লেষণ করলে যেসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় , সেগুলি হল : 

সর্বজনীন শিক্ষা : 

সাধারণ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এই শিক্ষা সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত । যে কোনো মেধার শিশুই এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে । নিজস্ব চাহিদা , সামর্থ্য , প্রবণতা অনুযায়ী শিশুরা এই শিক্ষার স্তরগুলি একে একে অতিক্রম করে । 

প্রথাগত শিক্ষার অংশ : 

সাধারণ শিক্ষা হল প্রথাগত শিক্ষার অংশ বিশেষ । সাধারণ শিক্ষা প্রথাগত শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এই শিক্ষা গ্রহণের দ্বারা শিক্ষার্থীর বিভিন্ন দিকের বিকাশ ঘটে ।

আন্তঃক্রিয়ামূলক প্রক্রিয়া : 

সাধারণ শিক্ষাকে একটি আন্তঃক্রিয়ামূলক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয় । এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীরা আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান করে । ফলে শিক্ষার্থীরা পরস্পরকে জানার সুযোগ পায় । পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে । 

সামাজিক বিকাশে সহায়ক প্রক্রিয়া : 

সাধারণ শিক্ষা সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে । এই শিক্ষা শিক্ষার্থী বা শিশুর মধ্যে সামাজিক মনোভাব গড়ে তোলে । সমাজের বিভিন্ন ধরনের রীতিনীতি বা আদর্শ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলে । সমাজের ভালো দিক ও মন্দ দিকের মধ্যে প্রভেদ করতে সাহায্য করে । 

সংগতি বিধানে সহায়ক শিক্ষা : 

সাধারণ শিক্ষা শিক্ষার্থীকে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায় । সমাজের প্রতিটি সদস্য যদি পরস্পরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে , তাহলে সমাজ থেকে হিংসা , দ্বন্দ্ব , বিভেদ প্রভৃতি দূর হবে , আগামী দিনে একটি সুন্দর , শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠতে পারবে । 

ব্যক্তিত্বের বিকাশে সহায়ক শিক্ষা : 

সাধারণ শিক্ষা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের বিকাশে বিশেষভাবে সাহায্য করে । শিক্ষার্থীর স্বকীয়তা এবং মূল্যবোধ গড়ে ওঠে । একজন নাগরিকের কাছ থেকে সমাজ যা প্রত্যাশা করে সেই প্রত্যাশা পূরণে সাধারণ শিক্ষা একান্তভাবে প্রয়োজন । 

বৌদ্ধিক বিকাশে সহায়ক প্রক্রিয়া : 

সাধারণ শিক্ষা শিশুর বৌদ্ধিক বিকাশে বিশেষভাবে সাহায্য করে । এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় চর্চা করার সময় শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত ক্ষমতাগুলি বিকশিত হয় , বুদ্ধির বিকাশ ঘটে । তাই বৌদ্ধিক বিকাশকে সাধারণ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় । 

সংস্কৃতি বা কৃষ্টিমূলক শিক্ষা : 

সাধারণ শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে । যুগ যুগ ধরে সঞ্জিত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মানুষ বংশ পরম্পরায় গ্রহণ করেছে , প্রয়োজন মতো তার পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং বংশধরদের হাতে তুলে দিয়েছে । এইভাবেই সভ্যতার অগ্রগতি ঘটেছে । সমাজ সাধারণ শিক্ষার মাধ্যমেই এই কঠিন কাজটি করে আসছে । 

নাগরিকতা অর্জনে সহায়ক শিক্ষা : 

সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্য হল গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার উপযোগী নাগরিক তৈরি করা । যে-কোনো রাষ্ট্রের উন্নতি এবং সাফল্য নির্ভর করে সেই দেশের সুনাগরিকদের ওপর । তাই সাধারণ শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সুনাগরিক তৈরি করা , যারা ভবিষ্যতে দেশকে পরিচালনা করবে । 

ব্যক্তি বৈষম্যের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা : 

সাধারণ শিক্ষা ব্যক্তি বৈষম্যের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত । এই শিক্ষায় বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয় । শিক্ষার্থীরা নিজেদের চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয় ( বিজ্ঞান / বাণিজ্য / কলা ) নির্বাচন করার সুযোগ পায় । তবে কয়েকেটি সাধারণ বিষয় সবাইকেই পড়তে হয় । সেই ক্ষেত্রে পাঠদানকালে ব্যক্তি বৈষম্যের নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন । 

অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা : 

ব্যক্তিকে তার দায় দায়িত্ব , অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা সাধারণ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য । সাধারণ শিক্ষার এই বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত এটিকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয় ।

error: Content is protected !!