শিশুর অন্ধত্বের কারণ

শিশুর অন্ধত্বের কারণ

মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অন্ধত্বের কারণ 

গর্ভবতী নারী কোনো শারীরিক অসুস্থতার জন্য কড়া মাত্রার অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ গ্রহণ করলে , সেই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে অনেক সময় গর্ভস্থ শিশুর দৃষ্টি শক্তির ত্রুটি ঘটে । 

এ ছাড়া সন্তান সম্ভবা মা যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য না পান , তাহলে অপুষ্টি জনিত কারণে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি যথাযথ হয় না । অনেক সময় শিশু রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে । সেক্ষেত্রেও গর্ভস্থ শিশুর মধ্যে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে । 

এ ছাড়া মস্তিষ্কের টিউমার জনিত রোগে কিংবা মস্তিষ্কের জ্বর দেখা দিলেও শিশুর দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হতে পারে ।

প্রসবকালীন অন্ধত্বের কারণ 

স্বাভাবিক উপায়ে শিশু ভূমিষ্ঠ না হলে অনেক সময় ডাক্তাররা যন্ত্রের সাহায্যে শিশুর প্রসব করান । সেই সময় যন্ত্রের চাপে মস্তিষ্কে কোনোরূপ আঘাত লাগলে , মস্তিষ্কের অপটিক লোবের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় । এর ফলেও শিশুর মধ্যে দৃষ্টিহীনতা লক্ষ করা যায় । 

এ ছাড়া বহু মায়েরা ২৮০ দিনের স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই অপরিণত শিশুর জন্ম দিয়ে থাকেন । সেইসব ক্ষেত্রেও অনেক সময় শিশুর দৃষ্টিশক্তিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায় । শিশু অন্ধত্ব প্রাপ্তও হয় । 

জন্মলাভের পরবর্তী সময়ে অন্ধত্বের কারণ 

জন্মলাভের পর শিশু যখন ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে , তখন নানা কারণে তাদের মধ্যে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে । যেমন , উপযুক্ত পুষ্টির অভাবে শিশুর রেটিনার বৃদ্ধি ব্যাহত হলে শিশু ধীরে ধীরে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে । বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু সংক্রমণের ফলেও শিশুর মধ্যে দৃষ্টিহীনতা দেখা দেয় । কোনো আঘাত জনিত কারণে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা রেটিনা বিচ্যুত হলে শিশু দৃষ্টিহীন হয়ে যায় । অনেক সময় সাংঘাতিক বিষক্রিয়ার ফলে শিশু দৃষ্টিহীন হয় । 

এ ছাড়া মস্তিষ্ক এবং চোখের ক্যানসার ও টিউমার রোগের কারণেও শিশু ধীরে ধীরে দৃষ্টি হারাতে পারে । রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিওরিটির ক্ষেত্রেও অনেক সময় শিশুর মধ্যে অন্ধত্ব বা দৃষ্টিহীনতা লক্ষ করা যায় ।

error: Content is protected !!