দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা পদ্ধতি

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা পদ্ধতি

ব্রেইল পদ্ধতি 

বর্তমানে সারা বিশ্বে দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়েদের পড়ানোর জন্য ব্রেইল পদ্ধতি প্রচলিত । লুইস ব্রেইল ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এই বিশেষ স্পর্শ পদ্ধতির প্রচলন করেন । বর্তমানে বাংলা ভাষাতে উন্নত মানের ব্রেইল লেখা হয় । ব্রেইল ব্যবস্থায় পুরু কার্ডবোর্ড বা কাগজের ওপর যে শক্ত জিনিস দিয়ে উঁচু উঁচু ডট বা বিন্দু দেওয়া হয় , তাকে বলা হয় ‘ স্টাইলাস ’ । উঁচু উঁচু ছয়টি বিন্দুকে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে বাঁদিক থেকে ডানদিকে ব্রেইল লেখা হয় । 

এই পদ্ধতিতে হাতের স্পর্শের মাধ্যমে লেখা পড়তে হয় । বৈজ্ঞানিক সংকেত , গণিত , সংগীতের স্বরলিপি প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় ব্রেইলের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় । 

ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি 

অন্ধ শিশুদের পড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে । অর্থাৎ প্রত্যেক শিশুর প্রতি আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া হয় । প্রতিটি শিশুর চাহিদা অনুযায়ী শিখন পদ্ধতি আলাদাভাবে নির্বাচিত হয় ।

শব্দ নির্ভর পদ্ধতি

অন্ধ শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য টকিং বুক , ফোনোগ্রাম , টেপরেকর্ডার , ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি বিশেষ করে পাঠ্যসূচির বিভিন্ন অংশের ওপর অডিয়ো ক্যাসেট প্রভৃতির ব্যবহার করা হয় । 

নির্ভুল অভিজ্ঞতা দান 

অন্ধ ছেলেমেয়েরা মূলত স্পর্শ এবং শ্রবণের মাধ্যমে বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে । সেই কারণে তাদের পড়ানোর সময়ে স্পর্শেন্দ্রিয় এবং শ্রবণেন্দ্রিয়কে কাজে লাগিয়ে সঠিক অভিজ্ঞতা দানের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় ।

সক্রিয়তা ভিত্তিক পদ্ধতি 

দৃষ্টিহীনদের সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করানো হয় । পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটিয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয় । ফলে একদিকে তারা যেমন অনুপ্রাণিত হয় অন্যদিকে যথাযথ অভিজ্ঞতা লাভ করে । 

ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায় , দৃষ্টিহীনদের শিখন পদ্ধতি মূলত ব্রেইল ব্যবহারের কৌশলের ওপর নির্ভরশীল । যেসব দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়ে ব্রেইল পাঠে দক্ষতা অর্জন করে তাদের ব্রেইল লেখার মাধ্যমেই পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয় ।

error: Content is protected !!