প্রতিবন্ধী কাকে বলে 

প্রতিবন্ধী কাকে বলে 

যেসব ব্যক্তি দৈহিক , ইন্দ্রিয়গত , মানসিক ও শিখনগত ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট মাত্রায় স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় অক্ষম , তাদের প্রতিবন্ধী বলে । 

প্রতিবন্ধী শিশুদের শ্রেণীবিভাগ

প্রতিবন্ধীদের সাধারণত নিম্নলিখিত পাঁচভাগে ভাগ করা হয়— 

শারীরিক প্রতিবন্ধী : 

চলনে অক্ষম ব্যক্তিকে দৈহিক প্রতিবন্ধী বলে । পেশি এবং অস্থিসন্ধির অসুবিধার কারণে দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক চলন ব্যাহত হয় । 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী : 

যে সমস্ত ব্যক্তির সবচেয়ে ভালো চোখে বা লেন্স ব্যবহারের পরেও দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা ২০/২০০ বা তারও কম অথবা ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ২০ / ২০০ এর বেশি কিন্তু ব্যক্তির ভালো চোখে দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা ২০ ইঞ্চির বেশি নয় , তাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলে । দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আংশিক বা সম্পূর্ণ ( অন্ধ ) হতে পারে । 

শ্রবণ প্রতিবন্ধী : 

যখন কোনো ব্যক্তির শ্রবণ ক্ষমতা এতটাই খারাপ হয় যে , শ্রবণ যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া সে অন্যের কথা শুনতে পায় না তখন তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলে । শ্রবণ জনিত প্রতিবন্ধকতা নানান মাত্রার হতে পারে ।

মানসিক প্রতিবন্ধী : 

American Association on Mental Deficiency মানসিক প্রতিবন্ধকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে— বিকাশকালীন সময়ে ( ১৮ বছরের মধ্যে ) প্রকাশমান , গড় অপেক্ষা অনেক নিম্নমানের বৌদ্ধিক কার্যাবলি এবং অভিযোজনমূলক আচরণের ঘাটতিকেই মানসিক প্রতিবন্ধকতা বলে । মানসিক প্রতিবন্ধীদের তিন ভাগে ভাগ করা হয় , যেমন অল্প বুদ্ধি ( Moron ) , খুব কম বুদ্ধি ( Imbecile ) এবং জড় বুদ্ধি ( Idiot ) ।  

শিখনে অক্ষম : 

মৌখিক বা লিখিত ভাষা ব্যবহারে , অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে মনোযোগ দিয়ে শোনা , পাঠ করা , বানান করা , গাণিতিক সমস্যার সমাধান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ত্রুটি , যা শিখনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে , তাকে শিখন প্রতিবন্ধকতা বলে । উচ্চারণ , ভাষা অনুধাবন , লিখন , ভাষার মাধ্যমে ভাব প্রকাশ , পঠনগত , গাণিতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যা সম্পন্ন ব্যক্তিরা শিখন প্রতিবন্ধীর উদাহরণ ।

error: Content is protected !!