রবীন্দ্রনাথের মতে শিক্ষার বিভিন্ন দিক

রবীন্দ্রনাথের মতে শিক্ষার বিভিন্ন দিক

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শন ভাববাদ , প্রকৃতিবাদ , প্রয়োগবাদ প্রভৃতি নানান দার্শনিক তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল । তাঁর শিক্ষা চিন্তা বিশ্বভারতী ও শ্রীনিকেতনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল । তাঁর শিক্ষা দর্শনের পাঁচটি প্রধান দিক হল : 

প্রাকৃতিক এবং সামাজিক পরিবেশে শিক্ষা 

রবীন্দ্রনাথ চার দেওয়ালের মধ্যে অর্থাৎ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মধ্যে শিক্ষা পছন্দ করতেন না । তিনি মুক্ত আকাশের নীচে প্রাকৃতিক পরিবেশে পাঠদানকে গুরুত্ব দিয়েছেন । তাই তিনি শান্তিনিকেতনের উন্মুক্ত প্রান্তরে ব্রহ্মচর্যাশ্রম নামে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন । 

শিক্ষায় আনন্দ 

রবীন্দ্রনাথের মতে আনন্দের মধ্যে দিয়েই প্রকৃত শিক্ষা হয় । কেবল পুথিগত শিক্ষা শিক্ষার্থীকে আনন্দ দিতে পারে না । এর জন্য চাই হৃদয় বৃত্তির চর্চা । এই কারণে আশ্রমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের আনন্দ দানের জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজকে পাঠক্রমে স্থান দিয়েছিলেন । 

শিক্ষায় স্বাধীনতা 

রবীন্দ্রনাথ শিক্ষায় এবং কর্মে মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন । তিনি মনে করতেন , শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা দিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে উঠবে । একই সঙ্গে তিনি সচেতন ছিলেন যাতে স্বাধীনতা কখনোই স্বেচ্ছাচারিতায় পর্যবসিত না হয় । 

বিকাশ রূপে শিক্ষা 

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনের আর একটি দিক হল বিকাশ । বিকাশ বলতে রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার্থীর ব্যক্তি সত্তার বিকাশকে বুঝিয়েছেন । শিক্ষা যেমন মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তাকে উন্মোচিত করে , তেমনি তা শিক্ষার্থীর দেহ , মন ও আত্মার পরিপূর্ণ বিকাশেও সহায়ক হয় । 

সক্রিয়তার মাধ্যমে শিক্ষা 

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনে সক্রিয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় । শিশুরা যেমন খেলার মধ্য দিয়ে সক্রিয়তা প্রকাশ করে , বয়স্করা তেমনি কাজের মাধ্যমে সক্রিয়তা প্রদর্শন করেন । রবীন্দ্রনাথ তাঁর আশ্রমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলা এবং কাজ উভয়কে স্থান দিয়েছিলেন । তিনি শ্রীনিকেতনে কর্ম ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন । এইভাবে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনে শিক্ষার মৌলিক দিকগুলির প্রতিফলন দেখা যায় ।

error: Content is protected !!