কোঠারি কমিশনের মতে মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

Contents

কোঠারি কমিশনের মতে মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

মাধ্যমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ 

[ 1 ] প্রত্যেকটি জেলার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন পরিকল্পনা করে পরবর্তী দশ বছরে তা কার্যকর করতে হবে । 

[ 2 ] প্রতিটি নতুন বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যাতে উন্নত হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে । চালু বিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মানও উন্নত করতে হবে । 

মাধ্যমিক শিক্ষার বৃত্তিমুখীকরণ 

১৯৮৬ র মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক স্তরের মোট শিক্ষার্থীর শতকরা কুড়ি ভাগ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শতকরা পঞ্চাশ ভাগ যাতে বৃত্তি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে । 

উৎপাদনশীলতা 

মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হবে শিক্ষার সঙ্গে বৃত্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে যুক্ত করে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা । এই লক্ষ্য পূরণের জন্য কোঠারি কমিশন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেছে । শিক্ষার্থীরা যাতে কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করে , সেই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে । এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষাকে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পরিবর্তিত করার ব্যাপারেও কমিশন সুপারিশ করেছে । 

জাতীয় সংহতি 

কোঠারি কমিশনের মতে মাধ্যমিক শিক্ষার আর একটি লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও জাতীয় সংহতিবোধের বিকাশ ঘটানো । এই লক্ষ্যে পৌঁছোনোর জন্য কমিশন সাধারণ বিদ্যালয় প্রথা ( Common School System ) চালু করার সুপারিশ করেছে । এই বিদ্যালয়ে সব ধরনের শিক্ষার্থী জাতি-ধর্ম-বর্ণ এবং আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে পড়াশোনার সুযোগ পাবে । এই ধরনের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ভরতি করা হবে মেধার ভিত্তিতে । এখানে মাতৃভাষার মাধ্যমে পড়ানো হবে । 

আধুনিকীকরণ 

মাধ্যমিক শিক্ষার আর একটি লক্ষ্য হল শিক্ষার আধুনিকীকরণ । এর জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন চিন্তা ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে , এ ছাড়া নতুন নতুন জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠে । 

মূল্যবোধ 

মাধ্যমিক শিক্ষার আর একটি লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো । এই মূল্যবোধগুলি হবে সামাজিক ও নৈতিক । 

নাগরিকতা 

মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক নাগরিকতার বোধ জাগ্রত করা । এজন্য শিক্ষার পাঠক্রমে সেই সমস্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা পাঠ করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক নাগরিকতার ভাব বিকশিত হবে । 

মনোভাব গঠন 

মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রগতিশীল এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তোলা । এই উদ্দেশ্যটি সফল করার জন্য শিক্ষাকে দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে । মাধ্যমিক 

শিক্ষার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কমিশনের অভিমত 

[ 1 ] শিক্ষার্থীর বয়ঃসন্ধিকাল মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের অন্তর্ভুক্ত । জীবনের বিকাশগত এবং শিক্ষাগত উভয়দিক থেকে এই শিক্ষাকালটিকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হয় । মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ ক’রে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করে , আবার বহু শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয় । তাই এই স্তরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । 

[ 2 ] মাধ্যমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতি নজর দেয় ; যাতে তারা যোগ্য , সক্ষম ও সুনাগরিক হয়ে উঠতে পারে । 

[ 3 ] এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তিমূলক ও উৎপাদন ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো হয় । যার ফলে তারা দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে । 

[ 4 ] এই শিক্ষায় শিক্ষার্থীকে আগামী দিনে নেতৃত্ব দানের জন্য প্রস্তুত করা হয় । 

[ 5 ] এই শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটানো হয় । এগুলি ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যক ।

error: Content is protected !!