ভারতীয় সংবিধানে শিক্ষা সংক্রান্ত ধারা

ভারতীয় সংবিধানে শিক্ষা সংক্রান্ত ধারা

সংবিধানের নির্দেশক নীতি অংশ থেকে সপ্তম তপশিল পর্যন্ত শিক্ষা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বহু ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে , যেমন —

প্রাথমিক শিক্ষা 

সংবিধানের ৪৫ নং ধারা অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে — সংবিধান চালু হওয়ার দশ বছরের মধ্যে ‘ রাষ্ট্র ’ দেশের প্রতিটি ছেলে মেয়ের জন্য চোদ্দো বছর বয়স পর্যন্ত বাধ্যতামূলক , অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট হবে । 

দুর্বলতর শ্রেণির রক্ষাকবচ 

সংবিধানের ৪৬ নং ধারা অনুযায়ী , রাষ্ট্র বিশেষ যত্নের সঙ্গে সমাজের অনগ্রসর , বিশেষ করে তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবে । 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম শিক্ষা ও ধর্মীয় উপাসনা প্রসঙ্গে 

সংবিধানের ২৮ নং ধারায় বলা হয়েছে যে , সরকারি অনুদানে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না । ২৮ ( ৩ ) ধারায় বলা হয়েছে যে , সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বা অনুমোদিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় শিক্ষা দান বা শিক্ষা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীরা সেই অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য নয় । 

সংখ্যা লঘুদের স্বার্থ রক্ষা 

২৯ নং ধারায় বলা হয়েছে , ভারতে বসবাসকারী সমস্ত নাগরিকদের স্বতন্ত্র লিপি , ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার থাকবে । ২৯ ( ১ ) নং ধারায় বলা হয়েছে যে , সরকার পরিচালিত বা সরকারি অনুদানে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরতির ক্ষেত্রে জাতি , ধর্ম সম্প্রদায় , ভাষা অথবা যে কোনো একটি বিষয়ে অজুহাত দিয়ে ভারতীয় কোনো নাগরিককে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না । ২৯ ( ২ ) নং ধারায় বলা হয়েছে , রাষ্ট্র পরিচালিত বা সাহায্য প্রাপ্ত কোনো বিদ্যালয় ধর্ম , জাতি , সম্প্রদায় কিংবা ভাষার অজুহাতে কোনো ছাত্রছাত্রীকে ভরতি নিতে অস্বীকার করতে পারবে না । 

সংখ্যা লঘুদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অধিকার 

সংবিধানের ৩০ ( ১ ) নং ধারায় বলা হয়েছে , সমস্ত ধর্মগত ও ভাষাগত সংখ্যা লঘু মানুষের নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার থাকবে । ৩০ ( ২ ) অংশে বলা হয়েছে ধর্ম ও ভাষার দিক থেকে সংখ্যা লঘু , এই অজুহাতে সাহায্য দানে রাজ্য কোনো বৈষম্য করতে পারবে না । 

মাতৃভাষা সংক্রান্ত 

৩৫০ ( ক ) নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যকে সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রাথমিক স্তরে মাতৃ ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা লাভের সুযোগ দিতে হবে । 

হিন্দি ভাষার উন্নতির জন্য 

৩৫১ নং ধারায় বলা হয়েছে , হিন্দি ভাষার উন্নতি ও প্রসার ভারত সরকারের দায়িত্ব । 

অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বিদ্যালয়ে সাহায্য 

৩৩৭ নং ধারায় বলা হয়েছে , সংবিধান চালু হওয়ার তিন বছর পর্যন্ত অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে যে সাহায্য দেওয়া হত , তা দেওয়া হবে । 

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শিক্ষা 

২৩৯ নং ধারায় বলা হয়েছে যে , পার্লামেন্ট কর্তৃক বিধিবদ্ধ আইন ছাড়াও রাষ্ট্রপতি প্রশাসক নিয়োগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন । 

কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব 

৬২ , ৬৩ , ৬৪ , ৬৫ , ৬৬ এবং ৬৭ নং ধারায় শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব ব্যক্ত করা হয়েছে ।

error: Content is protected !!