কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধা

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধা

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার সুবিধা

আধুনিক যুগে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয়েছে । কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার সাধারণ সুবিধাগুলি হল :

ব্যক্তিগত বৈষম্য অনুযায়ী শিক্ষা দান : 

শ্রেণির সব ছাত্রছাত্রী একই মেধা সম্পন্ন হয় না । সাধারণ শ্রেণিশিখনে সব ছাত্রছাত্রীকে তাদের মেধা অনুযায়ী আলাদা আলাদাভাবে পড়ানো সম্ভব নয় , কিন্তু কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় প্রত্যেকটি ছাত্র বা ছাত্রী নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী  করতে পারে । 

অনুশীলনে সহায়তা : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় প্রতিটি ছাত্রছাত্রী নিজের প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষার বিভিন্ন মডিউলগুলি অনুশীলনের সুযোগ পায় । 

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান মূলক শিখনের ক্ষেত্রে সাহায্য করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও সহায়ক হয় । 

শিক্ষায় প্রেরণা দান : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষা ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে প্রেরণা জোগায় । কম্পিউটারের সাথে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করতে করতে কম্পিউটার যখন শিক্ষার্থীকে শিখনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানায় , তখন শিক্ষার্থী আরও শেখার অনুপ্রেরণা লাভ করে । 

সক্রিয়তা : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর মধ্যে সক্রিয়তা বজায় থাকে । কারণ কম্পিউটার চালানো থেকে শুরু করে শিখনীয় বিষয়ের সঙ্গে পরিচিতি লাভের জন্য এবং শিখন চলাকালে অগ্রগতি বা ফলাফল জানার জন্য প্রতি মুহূর্তে শিক্ষার্থীকে সক্রিয় থাকতে হয় । 

বহু ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার : 

মনোবিদদের মতে , শিখনের সময়ে যত বেশি সংখ্যক ইন্দ্রিয় ব্যবহৃত হবে শিখন তত বেশি ফলপ্রসূ হবে । কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একই সঙ্গে লিখিত বিষয়বস্তু এবং তাদের ছবি বা লেখচিত্র কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপিত করা যায় । 

মূল্যায়ন : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার একটি বিশেষ সুবিধা হল এটি নিজস্ব তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার সাহায্যে অতি দ্রুত শিক্ষার্থীর শিখনের অগ্রগতির মূল্যায়নে সহায়তা করে ।

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার অসুবিধা 

বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়তে থাকলেও কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার বেশ কয়েকটি অসুবিধা লক্ষ করা যায় । যেমন— 

মানবিক সম্পর্কের অভাব : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী কম্পিউটারে নির্ভুলভাবে প্রতিক্রিয়া করলে কম্পিউটার শিক্ষার্থীকে উদ্দীপনা জোগায় । এতে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী আনন্দ পায় , কিন্তু সাধারণ শ্রেণিশিখনের ক্ষেত্রে সঠিক প্রতিক্রিয়ার জন্য শিক্ষক শিক্ষিকার কাছ থেকে যে প্রশংসা বা সহপাঠীদের কাছ থেকে যে অভিনন্দন পাওয়া যায় তা কম্পিউটার যন্ত্র থেকে পাওয়া অসম্ভব । সাধারণ শ্রেণিশিখনে যে প্রাক্ষোভিক পরিবেশ গড়ে ওঠে তা কম্পিউটার ভিত্তিক শিখনে গড়ে ওঠার সুযোগ থাকে না । 

সংবেদনশীলতার অভাব : 

সাধারণ শ্রেণিশিখনে শিক্ষক শিক্ষিকা যতখানি আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের মানসিক অবস্থা অনুযায়ী বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করেন , কম্পিউটার থেকে সেই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব নয় । 

বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিখনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিষয় প্রতিকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সামনে তুলে ধরা হলেও তাতে বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব থেকেই যায় । জীববিদ্যার বিভিন্ন ব্যবচ্ছেদ কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখানো হলেও নিজের হাতে তা অভ্যাস না করার ফলে সঠিক জ্ঞান লাভ হয় না । 

সৃজনশীলতার অভাব : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম করা প্যাকেজ থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা লাভ করে । এই ধরনের শিক্ষা অনেকটা যান্ত্রিক । এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা অনেকাংশে ব্যাহত হয় । 

যান্ত্রিক অসুবিধা : 

কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার সবচেয়ে বড়ো অসুবিধা হল এটি যন্ত্র এবং বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল । যন্ত্র বিকল হলে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে শিক্ষার কাজ বন্ধ হয়ে যায় । উপযুক্ত সংখ্যায় কম্পিউটার না পাওয়ার কারণেও শিক্ষার্থীরা অসুবিধার সম্মুখীন হয় । 

বিষয় বস্তু উপস্থাপনের অসুবিধা :

কম্পিউটারের ছোটো মনিটরে একসঙ্গে দীর্ঘ বিষয় উপস্থাপন করা যায় না । 

ব্যয় বহুলতা : 

ব্যয়বহুল হওয়ার আমাদের মতো গরিব দেশের পক্ষে কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষার সর্বজনীনতা সম্ভব নয় ।

error: Content is protected !!