পঞ্চায়েত সমিতির গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী

পঞ্চায়েত সমিতির গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত সমিতির গঠন 

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার দ্বিতীয় স্তরে প্রতি ব্লকে একটি করে পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে । পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা হলেন— 

1. ব্লকের অন্তর্গত প্রতিটি গ্রাম থেকে নির্বাচিত অনধিক ৩ জন সদস্য , 

2. ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির প্রধানরা ( পদাধিকারবলে ) , 

3.  ব্লক এলাকার বিধানসভা ও লোকসভার নির্বাচিত সদস্যরা , 

4. ব্লক এলাকায় বসবাসকারী রাজ্যসভার সদস্য , 

5. ব্লক এলাকার নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্যরা ( সভাধিপতি ও সহসভাধিপতি বাদে ) । 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , কোনো মন্ত্রী পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হতে পারেন না । প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে । ওইসব সংরক্ষিত আসনের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ তপশিলি জাতি ও উপজাতি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে । 

এ ছাড়া পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ( তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনসহ ) মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে । পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর । সমিতির কার্যনির্বাহক হিসেবে কাজ করেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও । 

সমিতির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে সভাপতি ও একজনকে সহকারী সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করেন । সভাপতি পঞ্চায়েত সমিতির প্রশাসনিক কর্তা । তাঁর নেতৃত্বে সমিতির সমস্ত কাজ পরিচালিত হয় । পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে স্থায়ী সমিতি , সমন্বয় সমিতি , ও ব্লক সংসদ যুক্ত রয়েছে । 

স্থায়ী সমিতি : 

পঞ্চায়েত সমিতিতে কয়েকটি দপ্তর ভিত্তিক স্থায়ী সমিতি থাকে । সেগুলি হল অর্থ , কৃষি , সেচ , উন্নয়ন ও পরিকল্পনা , সমবায় , পূর্ত ও পরিবহণ , শিক্ষা , স্বাস্থ্য , ক্ষুদ্র শিল্প , প্রাণী সম্পদ বিকাশ , খাদ্য ও সরবরাহ , ভূমি সংস্কার , জনকল্যাণ ও ত্রাণ প্রভৃতি । পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি , তিন থেকে পাঁচজন নির্বাচিত সদস্য এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের ( প্রয়োজন অনুসারে ) নিয়ে পাঁচ বছরের জন্য এই স্থায়ী কমিটিগুলি গঠিত হয় । প্রতিটি সমিতিতে একজন কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন । 

সমন্বয় সমিতি : 

প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতিতে একটি করে সমন্বয় সমিতি রয়েছে । পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহসভাপতি , প্রতিটি স্থায়ী সমিতির কর্মধ্যক্ষ এবং পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাহী আধিকারিককে নিয়ে সমন্বয় সমিতি গঠিত হয় । পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্মের সঙ্গে অন্যান্য স্থায়ী সমিতির এবং বিভিন্ন স্থায়ী সমিতির পারস্পরিক কাজের সমন্বয় সাধন করা পঞ্চায়েত সমন্বয় সমিতির প্রধান কাজ । 

ব্লক সংসদ : 

পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত ( সংশোধনী ) আইন , ২০০৩ অনুসারে প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতিতে একটি করে ব্লক সংসদ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । পঞ্চায়েত সমিতির সব সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নিয়ে ব্লক সংসদ গঠিত হয় । 

পঞ্চায়েত সমিতির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি , পরিকল্পনা প্রণয়ন ও রূপায়ণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় বিচার সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে পঞ্চায়েত সমিতিকে উপদেশ ও পরামর্শ দেওয়া ব্লক সংসদের প্রধান কাজ । এ ছাড়া পঞ্চায়েত সমিতিকে যাবতীয় হিসাব , বাজেট ও অডিট রিপোর্ট ইত্যাদি পেশ করার দাবি জানাতে পারে ব্লক সংসদ । 

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী 

পঞ্চায়েত সমিতির হাতে যেসব কাজের দায়িত্ব রয়েছে সেগুলি মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – 

1. সংশ্লিষ্ট ব্লক এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন ; 

2. সংশ্লিষ্ট ব্লক এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির বাজেট পরীক্ষা ও অনুমোদন ; 

3. কৃষি , পশুপালন , কুটির শিল্প , সামাজিক উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ বা আর্থিক সাহায্য প্রদান ; 

4. রাজ্য সরকার কর্তৃক আরোপিত যে কোনো পরিকল্পনা বা কার্যক্রম রূপায়ণ করা ; 

5. আর্ত ও পীড়িতদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি ;  

6. পঞ্চায়েত সমিতির হাতে কয়েকটি বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে , সেগুলি হল — রাজ্য সরকার কর্তৃক নির্দেশিত রাস্তা , সেতু , খেয়া ঘাট প্রভৃতির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা , হাট বাজার স্থাপনে লাইসেন্স প্রদান ও লাইসেন্স ফি আদায় ; গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির স্থাবর সম্পত্তি পরিদর্শন ইত্যাদি ।

error: Content is protected !!