রাজ্যের শাসন বিভাগের কাঠামো

রাজ্যের শাসন বিভাগের কাঠামো

সংবিধানে ভারতকে ‘ রাজ্যগুলির সমবায় বা সন্মিলন ‘ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে । ভারতের শাসন বিভাগীয় কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রকৃতির । এই কারণে সংবিধানে সমগ্র ভারতের শাসন বিভাগীয় কাঠামোকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও রাজ্য প্রশাসন এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে । কেন্দ্রের মতো রাজ্যের শাসন বিভাগীয় কাঠামোর তিনটি ভাগ রয়েছে , যথা— 1. প্রশাসনিক 2. আইন বিষয়ক এবং 3. সচিবালয় । 

প্রশাসনিক 

রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর রাজ্যপাল , মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রীসভাকে নিয়ে গঠিত হয় । সংবিধান অনুযায়ী , রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের শাসনতান্ত্রিক প্রধান । রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় তিনি সর্বোচ্চ পদাধিকারী । তবে ভারতের রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের মতো সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির মতো রাজ্যপাল রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক শাসন প্রধান । রাজ্যপাল যেহেতু নিয়মতান্ত্রিক শাসক , তাই তাঁর পদটিকে নেহাতই নাম সর্বস্ব পদ বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন । 

রাজ্য প্রশাসনের প্রকৃত প্রশাসনিক প্রধান হলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রীসভা । রাজ্যের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকৃত শাসক হিসেবে অভিহিত করা হয় । কারণ তাঁর নেতৃত্বেই রাজ্য প্রশাসন পরিচালিত হয় । সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোর রীতি অনুযায়ী , মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভাকে রাজ্য আইন সভার নিম্নকক্ষ বিধানসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয় । 

সংবিধান অনুযায়ী , মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভা রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পাদনের বিষয়ে রাজ্য বিধানসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য । রাজ্য প্রশাসনের যাবতীয় নীতি ও কর্মসূচির বাস্তব রূপায়ণ এবং রাজ্যের সমগ্র প্রশাসন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য মন্ত্রী মণ্ডলী একা পালন করতে পারে না । এজন্য তাদের রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যকের আমলা ও রাজ্য প্রশাসনের বিভাগীয় সরকারি কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে হয় । রাজ্য প্রশাসনের কাজে নিযুক্ত এই সরকারি কর্মীদের ‘ অরাজনৈতিক স্থায়ী প্রশাসক ’ বা প্রশাসনের স্থায়ী নির্বাহী কর্তৃপক্ষ বলে অভিহিত করা হয় । 

আইন বিষয়ক 

রাজ্যের আইন বিষয়ক দপ্তর রাজ্যপাল এবং রাজ্য আইনসভার দুটি কক্ষ বিধানসভা ও বিধান পরিষদ নিয়ে গঠিত । ( বর্তমানে মে , ২০১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অবশ্য ২৮ টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র ৫ টি রাজ্য , যথাক্রমে বিহার , উত্তরপ্রদেশ , মহারাষ্ট্র , কর্ণাটক , জম্মু ও কাশ্মীরে বিধান পরিষদের অস্তিত্ব আছে । ) রাজ্য আইনসভা রাজ্য প্রশাসনের ক্ষেত্রে যেসমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকে তার মধ্যে রয়েছে রাজ্যের আইন প্রণয়ন , রাজ্যের শাসন বিভাগ অর্থাৎ রাজ্য মন্ত্রী মণ্ডলীকে নিয়ন্ত্রণ , রাজ্যের আর্থিক ব্যয় বরাদ্দের ( বাজেটের ) অনুমোদন ইত্যাদি । 

সচিবালয় 

রাজ্য প্রশাসনিক কাঠামোর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হল সচিবালয় । বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথ সত্তা হল সচিবালয় । রাজ্য প্রশাসন তথা রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত যাবতীয় প্রশাসনিক নীতি , কর্মসূচি , আদেশ বা নির্দেশের বাস্তব রূপ দিয়ে থাকে সচিবালয় । সমগ্র রাজ্য প্রশাসনে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং তাদের অধীনে কয়েকটি বিভাগ রয়েছে । মন্ত্রণালয়গুলির রাজনৈতিক প্রধান হলেন রাজ্যের মন্ত্রীরা , কিন্তু প্রশাসনিক প্রধান হলেন রাজ্য সরকারের নিযুক্ত সচিবগণ । মন্ত্রণালয়গুলির নীতি নির্ধারণে ও প্রশাসন পরিচালনায় মন্ত্রীদের সাহায্য করেন সচিবরা । 

জন প্রশাসনের আধুনিক বিশেষজ্ঞদের মতে , সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি , রাজ্য মন্ত্রীমণ্ডলী বস্তুত রাজ্য প্রশাসনের ‘ অস্থায়ী রাজনৈতিক প্রশাসক’মাত্র । রাজ্য প্রশাসনের যাবতীয় নীতি ও কর্মসূচির বাস্তব রূপায়ণ এবং রাজ্যের সমগ্র প্রশাসন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য মন্ত্রীমণ্ডলী একা পালন করতে পারে না । এজন্য তাঁদের রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যকের আমলা ও রাজ্য প্রশাসনের কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে হয় । 

রাজ্য প্রশাসনের কাজে নিযুক্ত এই সরকারি কর্মীদের ‘ অরাজনৈতিক স্থায়ী প্রশাসক ‘ বা প্রশাসনের ‘ স্থায়ী নির্বাহী কর্তৃপক্ষ ‘ বলে অভিহিত করা হয় । রাজ্য প্রশাসনের কাজে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত এই কর্মীরা প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রেখে বিশেষ দক্ষতা ও কর্মকুশলতার সঙ্গে রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন ।

error: Content is protected !!