ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গঠন

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গঠন

ভারতের কেন্দ্রীভূত ও অখণ্ড বিচার ব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছে সুপ্রিমকোর্ট । এই আদালতকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত বলা হয় । সংবিধানের ১২৪-১৪৭ নং ধারাগুলিতে সুপ্রিমকোর্টের গঠন বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে । 

বিচারপতির সংখ্যা 

সংবিধানের ১২৪ ( ১ ) নং ধারায় বলা হয়েছিল পার্লামেন্ট আইন করে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা স্থির না করা পর্যন্ত একজন প্রধান বিচারপতি ও অনধিক সাতজন বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত হবে । পার্লামেন্ট বিভিন্ন সময়ে আইন করে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়েছে । 

সবশেষে ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টের নতুন আইন অনুসারে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬ জন করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন প্রধান বিচারপতি এবং অন্য ২৫ জন সহকারী বিচারপতি । এ ছাড়া প্রয়োজন অনুসারে সুপ্রিমকোর্টে অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের কথা সংবিধানে বলা হয়েছে ( ১২৮ নং ধারা ) । 

বিচারপতিদের নিয়োগ 

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি । বিচারপতি নিয়োগের আগে রাষ্ট্রপতি দরকার মতো সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন । এই পরামর্শ গ্রহণ করা রাষ্ট্রপতির পক্ষে বাধ্যতামূলক নয় । অবশ্য প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগের আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করা রাষ্ট্রপতির পক্ষে বাধ্যতামূলক । সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেকটা তত্ত্বগত । বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিযুক্তির কাজ সম্পন্ন করেন । 

বিচারপতিদের যোগ্যতা , কার্যকাল ও পদচ্যুতি 

ভারতের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে— 

1. বিচারপতি নিযুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভারতের নাগরিক হতে হবে , 

2. তাঁকে অন্তত একাদিক্রমে পাঁচ বছর কোনো হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে কাজ করতে হবে অথবা ১০ বছর একাদিক্রমে কোনো হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করতে হবে অথবা রাষ্ট্রপতির বিবেচনা অনুযায়ী তাঁকে একজন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ হতে হবে । 

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকতে পারেন । কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে বা সংসদের প্রস্তাব অনুসারে রাষ্ট্রপতি তাঁকে পদচ্যুত করলে অথবা তাঁর মৃত্যু হলে বিচারপতির পদ শূন্য হতে পারে । 

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিকে পদচ্যুত করতে হলে ইমপিচমেন্ট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় । কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগ সংবলিত প্রস্তাব পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মোট সদস্য সংখ্যার অধিকাংশ এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে সমর্থিত হলে প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয় । রাষ্ট্রপতি ওই প্রস্তাব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে পদচ্যুত করেন । 

সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতি ভারতের কোনো আদালতে আইনজীবীর কাজ করতে পারেন না । অবশ্য সরকার এঁদের অনেক সময় রাষ্ট্রদূত , রাজ্যপাল , মন্ত্রী বা উপাচার্য পদে নিয়োগ করতে পারেন , সংবিধান এক্ষেত্রে কোনো বিধি নিষেধ আরোপ করেনি ।

error: Content is protected !!