অধস্তন আদালতের গঠন ও কার্যাবলী 

অধস্তন আদালতের গঠন ও কার্যাবলী 

হাইকোর্টের অধস্তন আদালতগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় – 1. জেলার অধস্তন আদালত , 2. মহানগরীয় অঞ্চলের অধস্তন আদালত । 

অধস্তন আদালতগুলির জেলা বিচারক এবং মহানগরীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়োগ , পদোন্নতি ও বদলি ইত্যাদি রাজ্যপালের হাতে রয়েছে । ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়াও অধস্তন আদালতের বিচারপতিদের অন্তত সাত বছর আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং হাইকোর্ট কর্তৃক মনোনীত হতে হয় ।

জেলার অধস্তন আদালত 

জেলার অধস্তন আদালতগুলির দুটি শ্রেণি রয়েছে— 1. দেওয়ানি আদালত , 2. ফৌজদারি আদালত । 

( i ) দেওয়ানি আদালত : দেওয়ানি আদালতগুলিকে ক্রমানুসারে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়— 1. জেলা বিচারকের আদালত , 2. অবর বিচারকের আদালত , 3. মুনসেফের আদালত এবং 4. ন্যায় পঞ্চায়েত ।

( ii ) ফৌজদারি আদালত : জেলার ফৌজদারি আদালতগুলি ক্রমানুসারে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত— 1. দায়রা আদালত , 2. অবর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত , 3. পঞ্চায়েত আদালত । 

মহানগরীয় অঞ্চলের অধস্তন আদালত 

মহানগরীয় অঞ্চলের অধস্তন আদালতগুলি কলকাতা , চেন্নাই , মুম্বাই প্রভৃতি মহানগরীতে রয়েছে । মহানগরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আদালত হল মহানগরীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত । এই আদালতের নীচে রয়েছে নগর দেওয়ানি আদালত এবং নগর দেওয়ানি আদালতের নীচে আছে ক্ষুদ্র আদালত । মহানগরীয় এলাকায় ফৌজদারি মামলাগুলির বিচারের জন্য আছে নগর দায়রা আদালতপ্রেসিডেন্সি ক্ষুদ্র আদালত । 

অধস্তন আদালতের কার্যাবলী  

জেলার অধস্তন আদালত 

দেওয়ানি আদালত : 

অধস্তন আদালতগুলির অন্তর্গত জেলার দেওয়ানি আদালত জেলার দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করে থাকে । এক্ষেত্রে জেলার দেওয়ানি আদালতগুলির শীর্ষে রয়েছে জেলা বিচারকের আদালত । এই আদালতে যে কোনো মূল্যের দাবিদাওয়া সম্পর্কিত মামলার নিষ্পত্তি করা হয় । 

জেলা বিচারক আবার জেলার ফৌজদারি আদালতের বিচারক হিসেবে কাজ করেন । অবর বিচারকের আদালত এবং মুনসেফের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জেলা বিচারকের আদালতে আপিল করা যায় । জেলার অবর বিচারকের আদালত সাধারণত ৫,০০০ টাকার বেশি মূল্যের মামলা নিষ্পত্তি করে থাকে । মুনসেফের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অন্য বিচারকের আদালতে আপিল করা যায় । 

মুনসেফের আদালতে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা মূল্যের সম্পত্তি  সম্পর্কিত মামলার নিষ্পত্তি করা হয় । জেলার দেওয়ানি আদালতের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থিত ন্যায় পঞ্চায়েত সামান্য পরিমাণ অর্থ সংক্রান্ত ছোটোখাটো মামলার বিচার করে থাকে । 

ফৌজদারি আদালত : 

জেলার ফৌজদারি আদালতের ক্ষেত্রে দায়রা আদালত সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে কাজ করে । এই আদালতে অবর ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় । অবর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জেলার গুরুতর ফৌজদারি মামলাগুলির বিচার করা হয়ে থাকে । জেলার ফৌজদারি আদালতগুলির সর্বনিম্ন স্তরে পঞ্চায়েত আদালত কাজ করে থাকে । 

মহানগরীয় অঞ্চলের আদালত 

মহানগরীয় আদালতের শীর্ষ পর্যায়ে মহানগরীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত কাজ করে । মহানগরীয় এলাকার দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি নগর দেওয়ানি আদালতে করা হয় । এ ছাড়া মহানগরীর ক্ষুদ্র আদালতগুলিতে ছোটোখাটো দেওয়ানি মামলার বিচার করা হয় । মহানগরীর ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে নগর দায়রা আদালত সর্বোচ্চ ভূমিকায় কাজ করে । 

নগর দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা যায় । প্রেসিডেন্সি ক্ষুদ্র আদালত মহানগরীর ছোটোখাটো ফৌজদারি মামলাগুলির নিষ্পত্তি করে থাকে । প্রেসিডেন্সি ক্ষুদ্র আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে নগর দায়রা আদালতে আপিল করা যায় ।

error: Content is protected !!