কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী 

নীতি নির্ধারণ ও রূপায়ণ 

কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের প্রধান কাজ হল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি নীতি নির্ধারণ করা এবং পরে ওই নীতিগুলির রূপায়ণ করা । ক্যাবিনেটের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । 

আইন প্রণয়ন 

কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে যেসব নীতি ও কর্মসূচি গৃহীত হয় তা বাস্তবে রূপায়ণের জন্য আইন প্রণয়নের দরকার হয়ে পড়ে । মন্ত্রীরা সংসদে বিল পেশ করেন । পরে সেই বিল সংসদে গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করলে আইনে পরিণত হয় । 

শাসন বিভাগ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ 

কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল শাসন বিভাগ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ । সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বগত ভাবে রাষ্ট্রপতি যাবতীয় শাসন ক্ষমতার অধিকারী হলেও কার্যত এই ক্ষমতা থাকে ক্যাবিনেটের হাতে । ক্যাবিনেটের লিখিত পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন না । বর্তমানে জনকল্যাণমূলক কাজকর্মের জন্য রাষ্ট্রের কর্মপরিধি বেড়ে যাওয়ায় ক্যাবিনেটের প্রশাসনিক দায়দায়িত্বও ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । 

সরকারের আয় ব্যয় নির্ধারণ 

সরকারের আয় ব্যয় নির্ধারণ বা বাজেট রচনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রত্যেক আর্থিক বছর শুরু হওয়ার আগে ক্যাবিনেটের তরফ থেকে অর্থমন্ত্রী পার্লামেন্টে বাজেট পেশ করেন । তার আগেই মন্ত্রীসভায় খসড়া বাজেট অনুমোদন করা হয় । 

বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয় সাধন 

সরকারি দপ্তরগুলির মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের জন্য আলাপ আলোচনা , আন্তর্বিভাগীয় কমিটি নিয়োগ ইত্যাদি কাজ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সম্পাদন করে থাকে । এজন্য ক্যাবিনেটের নিজস্ব সচিবালয় রয়েছে । 

পরিকল্পনা কমিশন গঠন 

সরকারি নীতি ও কর্মসূচির সার্থক রূপায়ণের জন্য কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটকে পরিকল্পনা কমিশন গঠন করতে হয় । জাতীয় অর্থনৈতিক বিকাশের কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য কমিশন কাজ করে থাকে । প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার বিশিষ্ট তিনজন ক্যাবিনেট সদস্য এবং অন্যান্যদের নিয়ে কমিশন গঠিত হয় ।

উচ্চপদাধিকারীদের নিয়োগ 

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী , তত্ত্বগত ভাবে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে থাকেন । বাস্তবে কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের পরামর্শ অনুযায়ী চালিত হন ।

যেসব উচ্চপদাধিকারীর নিয়োগে ক্যাবিনেট পরামর্শ দিয়ে থাকে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যপাল , রাষ্ট্রদূত , কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশনার , ভারতের ব্যয় নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা পরীক্ষক , নির্বাচন কমিশনার , অর্থ কমিশনার , আন্তঃরাজ্য পরিষদের আধিকারিকবৃন্দ , তিন ( বায়ু-স্থল-নৌ ) সামরিক বাহিনীর প্রধান , সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিবৃন্দ প্রমুখ । 

কূটনৈতিক ক্ষমতা 

দেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত নীতি নির্ধারণ এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর যে কোনো সন্ধি বা চুক্তি সম্পাদন করার ক্ষমতা ক্যাবিনেটের রয়েছে । বিদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে থাকেন । 

উপসংহার 

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার রীতি অনুযায়ী ভারতে যাবতীয় সরকারি কাজকর্ম রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও তা সম্পাদনা করে থাকে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট । সংসদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি এবং শাসন বিভাগের সংযোগ রক্ষার সেতু হিসেবে কাজ করে থাকে ক্যাবিনেট । বস্তুত , ব্রিটিশ ক্যাবিনেটের অনুকরণে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের ভূমিকা নির্ধারিত হয়েছে ।

error: Content is protected !!