অভিনব ভারত এর আদর্শ ও কর্মসূচি

Contents

অভিনব ভারত এর আদর্শ ও কর্মসূচি

vinayak savarkar
বিনায়ক দামােদর সাভারকর

মহারাষ্ট্রের বিপ্লবী বিনায়ক দামােদর সাভারকর মহারাষ্ট্র তথা ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনকে শক্তিশালী রূপ দেওয়ার জন্য গঠন করেন অভিনব ভারত ( ১৯০৪ খ্রি. ) নামক এক বিপ্লবী সংঘ । ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে সাভরকর মিত্রমেলা নামক যে সংঘটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারই নবরূপ  ছিল অভিনব ভারত । আত্মবলিদানের যে শিক্ষা অভিনব ভারতের সদস্যরা সারা ভারতের সামনে রেখেছিলেন তা আসলে ব্যর্থ হয়নি । মদনলাল ধিংড়া আত্মবলিদানের মহৎ লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন — ভারতে একমাত্র এই শিক্ষার অনুশীলন প্রয়ােজন যে , কীভাবে আত্মােৎসর্গ করতে হবে এবং এই শিক্ষা দেওয়ার একমাত্র রাস্তা নিজের জীবন উৎসর্গ করা ( ‘ The only lesson required in India is to learn how to die and the only way to teach it is by dying along ’ ) ।

অভিনব ভারত এর আদর্শ

ইতালির বিখ্যাত দেশপ্রেমিক ম্যাৎসিনির ইয়ং ইতালি সমিতির আদর্শে অভিনব ভারত গঠিত হয়েছিল । সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করাই ছিল এই বিপ্লব সংঘটির মূল লক্ষ্য । অভিনব ভারতের প্রতিটি সদস্যকে লাঠিখেলা , অশ্বারোহণ , সন্তরণ , পর্বতারােহণ ও সামরিক কৌশল শিক্ষা দেওয়া হত । অভিনব ভারতের নেতৃত্বে বিভিন্ন জায়গায় সভাসমিতি গঠন ও পত্র-পুস্তিকার মাধ্যমে স্বাধীনতার বাণী প্রচারের আদর্শ গ্রহণ করা হয়েছিল ।

অভিনব ভারত এর কর্মসূচি

অস্ত্র সংগ্রহ :

বােম্বাই ও পুনের প্রায় প্রত্যেকটি কলেজে অভিনব ভারতের গােপন শাখা গড়ে উঠেছিল । এই সকল শাখাগুলির প্রধান কর্মসূচি ছিল গােপনে অস্ত্র সংগ্রহ করা । সাভারকর নিজেই ইংল্যান্ড থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র গােপনে অভিনব ভারতের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন ।

বোমা তৈরি :

সাভারকর রুশ ভাষায় লেখা বােমা তৈরির ফর্মুলাকে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে মির্জা আব্বাসের সাহায্যে তা ভারতে পাঠান । পরে প্যারিস থেকে বোমা তৈরির কৌশল শিখে এসে পি. এন. ভগত কোলাপুরে বোমা তৈরি শুরু করেন।

অভিনব ভারত এর বিপ্লববাদ

অভিনব ভারতের প্রচেষ্টায় মহারাষ্টসহ সমগ্র ভারতে বিপ্লববাদের প্রসার ঘটে । সাভারকরের অনুচর মদনলাল ধিংড়া স্যার কার্জন উইলিকে হত্যা করেন । অনন্ত লক্ষন কাহ্নেরির হাতে নাসিকের ম্যাজিস্ট্রেট জ্যাকসন নিহত হন  ( ১৯০৯ খ্রি.২১ডিসেম্বর ) । নাসিক হত্যাকাণ্ড মামলায় ৩৮ জন বিপ্লবীকে গ্রেফতার করা হয় , যাদের প্রায় সকলেই ছিলেন অভিনব ভারতের সদস্য । বিচারের রায়ে ৩ জনের ফাঁসি হয় ও ২৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড‌ দেওয়া হয় । রাজদ্রোহিতার অভিযােগে গণেশ সাভারকর ও বিনায়ক দামােদর সাভারকরের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর হয় । অন্য লক্ষণ কাহ্নেরি ও তার দুই সহযােগী নারায়ণ দেশপান্ডে এবং কৃষ্ণগােপাল কার্ভে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন (১০ এপ্রিল. ১৯১০খ্রি. )।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!