আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

জাতিপুঞ্জের সনদ অনুযায়ী ( ৯২ নং ধারা ) আন্তর্জাতিক বিচারালয় জাতিপুঞ্জের মুখ্য বিচার বিভাগীয় সংস্থা । আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধের মীমাংসা করা এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কিত বিষয়ের আলোচনার উদ্দেশ্যে এই বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদ স্বাক্ষরকারী সব সদস্যরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে বিচারপ্রার্থী হতে পারে । যেসব রাষ্ট্র জাতিপুঞ্জের সদস্য নয় তারাও শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের সংবিধানের আওতাভুক্ত হতে পারে । তবে কোনো ব্যক্তিগত বিবাদ বিসংবাদের মীমাংসা আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে করা যায় না । 

সাধারণত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংঘটিত কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে তার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রগুলি এই বিচারালয়ের দ্বারস্থ হয় । 

আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের এক্তিয়ার বা এলাকাকে তিনভাগে ভাগ করা যায় – 1. স্বেচ্ছাধীন এলাকা , 2. আধা আবশ্যিক এলাকা , 3. পরামর্শদানমূলক এলাকা । 

স্বেচ্ছাধীন এলাকা 

আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে বিবদমান রাষ্ট্রগুলির সম্মতিক্রমে পেশ করা সমস্ত মামলা স্বেচ্ছাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয় । অবশ্য বিচারালয়ে এ ধরনের মামলা আনার আগে বিবদমান রাষ্ট্রগুলিকে এই মর্মে অঙ্গীকার করতে হয় যে , তারা বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত মেনে চলবে । প্রসঙ্গত বলা যায় , আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার জন্যে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে কোনো রাষ্ট্রকে বাধ্য করা যায় না । 

আধা আবশ্যিক এলাকা 

জাতিপুঞ্জের সদস্যরাষ্ট্রগুলি কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় আন্তর্জাতিক আদালতের এক্তিয়ারকে আবশ্যিক বলে মেনে নেয় । আপাত অর্থে , আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের আধা আবশ্যিক এলাকা ভুক্ত ক্ষমতাকে ঐচ্ছিক মনে হলেও প্রকৃতিগতভাবে তা আবশ্যিক । যেসব বিষয় আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের আধা আবশ্যিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত , সেগুলি হল –

( 1 ) সনদের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিষয় ; 

( 2 ) সন্ধি বা চুক্তিপত্রের ব্যাখ্যা ; 

( 3 ) আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন ; 

( 4 ) আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভঙ্গের কোনো বিষয় ; 

( 5 ) আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভঙ্গের ক্ষেত্রে ক্ষতিপুরণের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ণয় ইত্যাদি ।  

পরামর্শদান মূলক এলাকা

আন্তর্জাতিক বিচারালয় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করে থাকে । সাধারণ সভা , নিরাপত্তা পরিষদ বা জাতিপুঞ্জের অন্য যে কোনো সংস্থা । আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের কাছে প্রয়োজনে পরামর্শ চাইতে পারে । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের পরামর্শ গ্রহণ করার ব্যাপারে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যায় না ।

মূল্যায়ন 

আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত । বিচারালয়ের রায় কার্যকর করার কোনো ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আদালতের নেই । তা ছাড়া কোনো সদস্যরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের রায় অনান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনোরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না । 

অবশ্য বহু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একথা বলা যায় যে , আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের গুরুত্ব উপেক্ষণীয় নয় । বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বিরোধ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে কয়েকটি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধ ইত্যাদি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারালয় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে ।

error: Content is protected !!