অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের গঠন 

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের গঠন 

উদ্দেশ্য ও মূল নীতি 

বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ শুধুমাত্র আন্তঃরাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের কাজকর্মেই নিজেকে সীমিত রাখেনি , বিশ্ব জুড়ে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক , সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমস্যার সমাধানেও কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছে । 

সদস্য সংখ্যা 

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বর্তমানে ৫৪ টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত । অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে নিরাপত্তা পরিষদের মতো বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির স্থায়ী সদস্যপদ স্বীকৃত হয়নি । তবে গণসাধারণতন্ত্রী চিন ছাড়া অন্য চার বৃহৎ শক্তি বার বার অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হয়েছে । অবশ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে আফ্রিকা ও এশিয়ার সদস্য রাষ্ট্রগুলির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ।  

সদস্য নির্বাচন 

প্রতি বছর পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অর্থাৎ ১৮ জন সদস্য অবসর গ্রহণ করেন এবং ১৮ জন নতুন সদস্য নির্বাচিত হন । প্রত্যেক সদস্যের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছর । যে কোনো সদস্যের পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পথে কোনো বাধা নেই । সাধারণ সভা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করে থাকে । 

ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী আফ্রিকা থেকে ১৪ , এশিয়া থেকে ১১ , লাতিন আমেরিকা থেকে ১০ , পশ্চিম ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে ১৩ এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে ৬ জন সদস্য নির্বাচিত হন । প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র অনধিক একজন প্রতিনিধি অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে পাঠাতে পারে । 

অধিবেশন 

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধিবেশন বছরে তিন বার অনুষ্ঠিত হয় । প্রথম অধিবেশন এপ্রিল-মে মাসে হয় নিউইয়র্কে , দ্বিতীয় অধিবেশন হয় জুলাই মাসে জেনেভায় , তৃতীয় অধিবেশন হয় অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে । 

এ ছাড়া পরিষদের সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যদের অনুরোধে বিশেষ অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা করা যায় । অধিবেশনের কাজকর্ম পরিচালনা করেন সভাপতি । প্রতি বছর প্রথম অধিবেশনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ একজন সভাপতি এবং দুজন সহসভাপতি নির্বাচন করে থাকে ।

error: Content is protected !!