ভারতে নারীর ভোটাধিকারের পক্ষে যুক্তি

ভারতে নারীর ভোটাধিকারের পক্ষে যুক্তি

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার একটি অপরিহার্য নীতি হিসেবে বিবেচিত হলেও বহুদিন ধরে নারীজাতির ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক চলেছে । তবে , স্বাধীন ভারতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন ( ১৯৫২ ) থেকে নারীর ভোটাধিকার কার্যকর হয়েছে । ভারতে নারীর ভোটাধিকারের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি উল্লেখ করা যায়— 

ন্যায়সঙ্গত 

ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষদের মতো নারীদেরও সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন । ভারত রাষ্ট্রের আইন ও কার্যকলাপ ভারতীয় পুরুষের মতো ভারতীয় নারীদেরও সমানভাবে স্পর্শ করে । তাই যে প্রতিনিধিরা ভারতে সরকারী নীতি নির্ধারণ করেন , তাঁদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারতীয় নারীদের সমান অধিকার থাকা যথার্থই ন্যায়সঙ্গত । 

শারীরিক অক্ষমতার অজুহাত দুর্বল 

শারীরিক অক্ষমতার অজুহাতে নারীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না । কারণ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দৈহিক শক্তির প্রয়োজন হয় না । ভারতের নারীরা আজ সবক্ষেত্রেই পুরুষদের সমকক্ষ । আর সর্বোপরি , আজ পর্যন্ত ভারতের সবথেকে ক্ষমতাশালী প্রধানমন্ত্রী একজন নারী — শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ।

নারীত্বের অজুহাত অচল 

নারীত্বের অজুহাতে ভারতীয় নারীদের ভোটাধিকার না দিলে সমগ্র নাগরিকের অর্ধেক অংশ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে । ফলে যে আইনসভা গঠিত হবে , তাকে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি সভা বলা যাবে না ।

নারীস্বার্থ ও সমস্যা সম্পর্কে নারীরা ওয়াকিবহাল 

ভারতের মতো দেশে নারীরা বহুবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয় । সেখানে নারীর প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থাকলে ভারতীয় নারীরা তাদের অভাব অভিযোগ বা আইনসভার দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হবে । 

নারীরাও সচেতন 

ভোটাধিকার প্রয়োগে ভারতীয় নারীজাতি পুরুষের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার যুক্তি সঠিক নয় । কারণ তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে । ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নেত্রীর সংখ্যা যথেষ্ট । ভারতের জাতীয় কংগ্রেস , বহুজন সমাজ পার্টি , এ.আই. এ.ডি.এম.কে. বা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী একজন নারী । এই দৃষ্টান্ত ভারতীয় নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত ।

error: Content is protected !!