ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নং ধারা

ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নং ধারা

ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নং ধারায় স্বীকৃত পাঁচটি লেখ হল ㅡ

বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ 

কোনো বন্দিকে আদালতে সশরীরে হাজির করাকে আইনের পরিভাষায় বলে ‘ Habeas Corpus ‘ বা ‘ বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ ‘ । সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্ট বন্দির আবেদন অনুযায়ী আটককারী কর্তৃপক্ষকে আদেশ জারি করে বন্দিকে আদালত কক্ষে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে । আদালত যদি মনে করে যে আবেদনকারীকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে তাহলে সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট বন্দিকে মুক্তিদানের নির্দেশ দিতে পারে । 

পরমাদেশ 

পরমাদেশ বা ‘ Mandamus’- এর অর্থ হল ‘ আমরা আদেশ করছি ‘ ( we order ) । এই লেখ জারি করে সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্ট কোনো অধস্তন আদালত , ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সরকারকে আইনমাফিক ও জনস্বার্থ সম্পর্কিত কর্তব্য পালনে বাধ্য করতে পারে । অবশ্য রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পরমাদেশ জারির ক্ষমতা সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্টকে দেওয়া হয়নি । 

প্রতিষেধ 

প্রতিষেধের অর্থ হল ‘ নিষেধ করা ‘ । সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্ট এই আদেশ জারি করে কোনো অধস্তন আদালতকে তার এক্তিয়ার বহির্ভূত বিষয়ে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে নিষেধ করতে পারে । প্রতিষেধ কেবলমাত্র বিচার বিষয়ক বা আধা বিচার বিষয়ক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযুক্ত হয় । 

অধিকার পৃচ্ছা 

অধিকার পৃচ্ছা বা ‘ Quo warranto ‘ বলতে বোঝায় ‘ কোন অধিকারে ‘ । কোনো ব্যক্তি যে পদ অধিকার করে থাকে সেই পদের জন্য তার দাবি কতখানি আইন সংগত তা সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্ট অধিকার পৃচ্ছার মাধ্যমে বিচার করে দেখে । এক্ষেত্রে দাবি বৈধ না হলে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদচ্যুত করার নির্দেশ দিতে পারে । 

উৎপ্রেষণ 

উৎপ্রেষণের অর্থ হল বিশেষভাবে জ্ঞাত হওয়া । উৎপ্রেষণের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্ট বা হাইকোর্ট নিরপেক্ষ বিচারের জন্য কোনো মামলা অধস্তন আদালত থেকে ঊর্ধ্বতন আদালতে স্থানান্তরিত করতে পারে ।

error: Content is protected !!