ভারতের সংবিধানে সংরক্ষিত সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার 

ভারতের সংবিধানে সংরক্ষিত সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার 

বহুজাতি অধ্যুষিত বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির দেশ ভারতে সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মৌলিক অধিকার । সংবিধানে ২৯ এবং ৩০ নং ধারায় সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে । 

২৯ নং ধারা 

সংবিধানের ২৯ নং ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে , ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাসকারী সমস্ত শ্রেণির নাগরিকের ভারতের যে কোনো স্থানের ভাষা , লিপি ও সংস্কৃতির রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার রয়েছে । এই সঙ্গে আরও বলা হয়েছে যে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম , জাতি , বর্ণ বা ভাষার বিভেদ জনিত কারণে কোনো নাগরিককে ভরতির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না । 

৩০ নং ধারা 

৩০ নং ধারায় বলা হয়েছে যে , প্রতিটি ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার অধিকার আছে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না । তা ছাড়া উপরিউক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো আসন সংরক্ষণ করা চলবে না । রাষ্ট্র যদি কোনো সংখ্যালঘু শ্রেণির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে । 

মূল্যায়ন 

সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার সংবিধানে মৌলিক অধিকারের তালিকায় লিপিবদ্ধ হওয়ায় ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন । বস্তুত ধর্ম , ভাষা ও গোষ্ঠীগত সংখ্যালঘুদের নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি এবং শিক্ষার অধিকারকে সুনিশ্চিত করার যে দৃষ্টান্ত সংবিধানে দেখানো হয়েছে পৃথিবীর অন্য কোথাও তা প্রায় নেই বললেই চলে ।

এই কারণে ১৯৯২ সালে সুপ্রিমকোর্ট সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকারের গুরুত্ব সম্পর্কে এক রায়দান করতে গিয়ে বলে , শিক্ষার অধিকার হল মৌলিক অধিকারের সহযোগী ( ” Right to education is concomitant to fundamental right . ” ) ।

error: Content is protected !!