প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সুবিধা অসুবিধা 

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সুবিধা অসুবিধা 

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের যেমন কিছু গুণ বা সুবিধা রয়েছে , তেমনি বেশ কিছু দোষ বা অসুবিধাও রয়েছে । 

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সুবিধা

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সুবিধাগুলি হলㅡ

রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি : 

গণতান্ত্রিক দেশের শাসনকাজে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া যায় বলে জনগণের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায় । 

জনস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ প্রতিরোধ :

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের অস্তিত্ব বজায় থাকলে সরকারের পক্ষে জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করা সম্ভব হয় না । সরকারের যাবতীয় কাজকর্ম এক্ষেত্রে জনগণের সম্মতিক্রমে পরিচালিত হয় । 

গণতান্ত্রিক নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা :

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনসাধারণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় কর্তব্য পালনে সজাগ করে দিয়ে গণতান্ত্রিক নীতি ও আদর্শের বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকে ।

জনস্বার্থ রক্ষা : 

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের ফলে জনস্বার্থের প্রতি দৃষ্টি রেখে সরকারি নীতি নির্ধারণ করা হয় ।

স্বৈরাচার রোধ : 

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ চালু থাকলে শাসকের স্বৈরাচার রোধ করা সম্ভব হয় বলে অনেকে মনে করেন । কারণ , স্বৈরাচারী প্রতিনিধিকে নির্ধারিত কার্যকাল শেষ হওয়ার আগেই পদচ্যুত করার ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকে । 

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অসুবিধা  

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অসুবিধা গুলি হল―

জনবহুল রাষ্ট্রের পক্ষে অকার্যকারী : 

জনবহুল রাষ্ট্রে ভোটদাতার সংখ্যা বিপুল হওয়ায় এখানে কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে কার্যকর করা যায় না ।

রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাবে ব্যর্থতা : 

জটিল রাজনৈতিক সমস্যাবলির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক জ্ঞান ও দূরদর্শিতা থাকা দরকার তা জনসাধারণের মধ্যে দেখা যায় না । এই কারণে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের সাফল্য সম্পর্কে সন্দেহ থেকে যায় । 

সুষ্ঠু ভাবে আইন প্রণয়ন অসম্ভব :

অনেকে মনে করেন , প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের দ্বারা জনগণ অহেতুক আইনসভার কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে বলে সভার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে আইন প্রণয়নের কাজ করা সম্ভব হয় না । 

জরুরি অবস্থায় অকার্যকর :

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে কার্যকরী নয় । 

গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী : 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অভিমত হল , অনেক সময় স্বার্থান্বেষী নেতৃবৃন্দের দ্বারা জনগণ বিপথে চালিত হয় । সেক্ষেত্রে জনকল্যাণের নামে যেসব আইন প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তৈরি হয় তা গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী হয়ে পড়ে । 

জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীলতা হ্রাস : 

প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ চালু থাকার ফলে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীলতা হ্রাস পায় বলে অনেকে মনে করেন । এই ব্যবস্থার ফলে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এইধরনের ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয় যে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয় , জনগণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ।

error: Content is protected !!