একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য

একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য

একনায়কতন্ত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে । সেগুলি হল— 

সর্বশক্তিমান রাষ্ট্র 

একনায়কতন্ত্রে ব্যক্তি জীবনের সমগ্র দিকের নিয়ন্তা হল সর্বশক্তিমান রাষ্ট্র । রাষ্ট্র এখানে সর্বাত্মক এবং সর্বশক্তিমান । 

এক দল , এক রাষ্ট্র , একনায়ক 

একনায়কতন্ত্রে এক দল , এক রাষ্ট্র ও একনায়কের অস্তিত্ব বর্তমান থাকে । হিটলারের আমলে জার্মানির স্লোগান ছিল ‘ এক জাতি , এক রাষ্ট্র , একনায়ক ‘ । হিটলারের নাৎসি দল ছাড়া অন্য কোনো দলের অস্তিত্ব জার্মানিতে স্বীকৃত ছিল না । 

বিরোধী জনমতের অস্তিত্বহীনতা 

একনায়কতন্ত্রে বিরোধী মতামত বলে কিছু থাকে না । একনায়কের বিরোধী নেতাদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের প্রহসনের দ্বারা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া হয় ।

সাম্রাজ্যবাদ ও যুগ্মবাদের জন্মদাতা 

একনায়কতন্ত্র সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবাদের জন্ম দেয় । মুসোলিনি আন্তর্জাতিক শান্তিকে কাপুরুষের স্বপ্ন বলে অভিহিত করেছিলেন । তাঁর বক্তব্য ছিল স্ত্রীলোকের কাছে মাতৃত্ব যেমন কাম্য , পুরুষের কাছে যুদ্ধও তেমনি কাম্য । 

মিথ্যার প্রচারক 

একনায়কতন্ত্রের প্রচার মূলত মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় । একনায়ক নিজের অত্যাচারী ভাবমূর্তিকে নিরন্তর মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে জনকল্যাণকর বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন । 

ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী 

একনায়কতন্ত্রে কোনোরকম ব্যক্তি স্বাধীনতাকে স্বীকার করা হয় না । 

গুপ্তচর বাহিনীর উপস্থিতি 

একনায়কতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দক্ষ গুপ্তচর বাহিনীর অস্তিত্ব । এই গুপ্তচর বাহিনী বিরোধী পক্ষকে নিধনের কাজে ব্যবহৃত হয় । মুসোলিনির আমলে কালো কুর্তা বাহিনী ( Black Shirt ) এবং হিটলারের আমলে গেস্টাপো হল একনায়কতন্ত্রে গুপ্তচর বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ । 

প্রহসনমূলক বিচার ব্যবস্থা 

একনায়কতন্ত্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হল প্রহসন মূলক বিচার ব্যবস্থা । এখানে বিচারের যাবতীয় কাজকর্ম একনায়কের নির্দেশে চালিত হয় । 

রাষ্ট্র ও সরকারের অভিন্নতা 

একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্র ও সরকার অভিন্ন । ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই এর বিখ্যাত উক্তি হল — আমিই রাষ্ট্র ( ‘ I am the state ‘ ) । 

সরকারি আইন ও নীতির কঠোরতা 

একনায়কতন্ত্রে সরকারি আইন ও নীতিকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় । কোনোরকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হয় না ।

error: Content is protected !!