গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ 

রাষ্ট্রচিন্তায় আদর্শ শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের স্থান সবার ওপরে । প্রাচীন গ্রিসে সাম্য ও স্বাধীনতার দাবিতে যে গণতান্ত্রিক ধারণার উন্মেষ হয়েছিল আধুনিক একবিংশ শতাব্দীতে তা এক মহান আদর্শে রূপান্তরিত হয়েছে । 

গণতন্ত্রের সংকট 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে , বিংশ শতাব্দীতে গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণার পূর্ণ বিকাশ ঘটে । আধুনিক যুগকে এই কারণে গণতন্ত্রের যুগ বলে অভিহিত করা হয় । অবশ্য বিংশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে গণতন্ত্র এক ভয়ংকর সংকটের মুখোমুখি হয় । জার্মানি ও ইতালির দুই রাষ্ট্রনায়ক যথাক্রমে হিটলার ও মুসোলিনি গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধ্বংস করার জন্য নাৎসিবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রবর্তন করেন । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ও ইতালির পরাজয় ঘটলেও নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের পরিসমাপ্তি ঘটেনি । এইসময় বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে নয়া নাৎসিবাদ এবং নয়া ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব ঘটে । 

অমীমাংসিত প্রত্যাশা 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে , গণতন্ত্র এখনও তার পূর্ণতা লাভ করতে পারেনি । গণতন্ত্র সম্পর্কে মানুষের যে প্রত্যাশা তা এখনও অপূর্ণ থেকে গেছে । অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অর্থহীন হয়ে পড়েছে । রাষ্ট্রীয় সম্পদ এখানে মুষ্টিমেয় ধনী ব্যক্তির করায়ত্ত । এর ফলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে । অবশ্য লয়েড এর মতো অনেকে মনে করেন , নাগরিকদের নির্লিপ্ততার কারণে গণতন্ত্র আজ সংকটের সম্মুখীন হয়েছে । নাগরিকদের নির্লিপ্ততা এবং উদাসীনতার কারণে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা মুষ্টিমেয় মানুষের করায়ত্ত হয়েছে । 

গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই 

তবে প্রশ্ন হল , জনগণের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রের কি কোনো বিকল্প আছে ? অনেকে বলেন যে , গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস হারানো জনগণের প্রতি বিশ্বাস হারানোর সমার্থক । বার্নসের মতে , গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি অস্বীকার করা যাবে না এ কথা সত্যি , তবে এজন্য প্রাচীন পরিত্যক্ত শাসন ব্যবস্থাগুলিকে আঁকড়ে ধরে থাকা ঠিক নয় । এই কারণে আজও গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই । 

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ 

গণতন্ত্র আধুনিক একবিংশ শতাব্দীতে তার জনপ্রিয়তা হারায়নি । সাম্প্রতিককালে নয়া উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন , গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণাকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেছে । বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় কাজকর্মে জনগণের সক্রিয় অংশ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । নাগরিক বা পুর সমাজের ( Civil Society ) কাজকর্ম বেড়ে চলেছে । গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণে নাগরিক সচেতনতা অধিকতর মাত্রায় সম্প্রসারিত হচ্ছে । সব মিলিয়ে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় — গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই , গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক জনগণের হাতে সুরক্ষিত রয়েছে ।

error: Content is protected !!