আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য

আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য

আইন হল সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা বলবৎ করা সেইসব নিয়মকানুন যা বাধ্যতামূলকভাবে মানুষের বাহ্যিক আচার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে । অন্যদিকে , নৈতিক বিধি হল সমাজের প্রচলিত সেইসব বিধিনিয়ম যা মানুষের বিবেকবোধ , নীতিবোধ , ভালোমন্দ , উচিত অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে । অতীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না । 

বস্তুতপক্ষে , ইতালির রাষ্ট্রনীতিবিদ মেকিয়াভেলিই সর্বপ্রথম আইনকে নৈতিকতা থেকে আলাদা করে বিচার করেন । যাই হোক , আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল— 

নিয়ন্ত্রণগত পার্থক্য 

আইন মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা , অনুভূতি নিয়ে যে অন্তৰ্জীবন , তাকে নিয়ন্ত্রণ করে । 

উৎসগত পার্থক্য 

আইন এবং নৈতিক বিধির মধ্যে উৎসগত দিক থেকে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে । আইনসভা আইন তৈরি করে । আইন প্রণয়নের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে । অন্যদিকে , নৈতিক বিধি সামাজিক আচারব্যবস্থা থেকে সুদীর্ঘকালের প্রয়াসে গড়ে ওঠে । নৈতিক বিধি কার্যকর করার বিষয়টি মানুষের বিবেকের ওপর নির্ভরশীল । 

শাস্তিবিধানে পার্থক্য

আইন লঙ্ঘন করলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তি পেতে হয় । অন্যদিকে , নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করলে শাস্তিবিধানের কোনো ব্যবস্থা নেই । নৈতিক বিধি মেনে চলার বিষয়টি পুরোপুরি মানুষের বিবেকের ওপর নির্ভরশীল । 

মূল্যবোধগত পার্থক্য 

নৈতিক বিধি মানুষের ন্যায়-অন্যায় , উচিত-অনুচিত বোধের ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে । আইনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো মূল্যবোধের প্রশ্ন জড়িত থাকে না । 

প্রকৃতিগত পার্থক্য 

আইনের প্রকৃতি যথাসম্ভব স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট । নৈতিক বিধির ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা বেশি করে চোখে পড়ে । আইনের মতো নৈতিক বিধি সূত্রাকারে সংবিধানে লিখিত অবস্থায় থাকে না । 

বিরুদ্ধগত পার্থক্য

আইন বিরুদ্ধ হলেও কোনো বিষয় নৈতিকতা বিরুদ্ধ নাও হতে পারে , তেমনি নৈতিকতা বিরুদ্ধ হলেও অনেক সময় কোনো বিষয় আইন বিরুদ্ধ হয় না । ব্যক্তি জীবনে কেউ যদি লোভী হয় সেটা নৈতিক বিচারে অপরাধ , কিন্তু আইনের চোখে সে অপরাধী নয় । আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন ।

error: Content is protected !!