আইনের প্রকৃতি

আইনের প্রকৃতি

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের প্রকৃতি বিশ্লেষণে সচেষ্ট হয়েছে । 

রাষ্ট্র কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণ 

রাষ্ট্র কর্তৃত্ব আইন তৈরি করে এবং তা বলবৎ করে । ম্যাকাইভার এর মতে রাষ্ট্র হল আইনের পিতামাতা ও সন্তানের মতো । সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র যেসব বিধিনিষেধ গড়ে তোলে , তাই হল আইন । 

সমাজ জীবনের দর্পণ 

আইনের মাধ্যমে সমাজের রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারার প্রতিফলন ঘটে । মার্কিন রাষ্ট্রপতি উইলসন আইনকে ‘ সমাজ জীবনের দর্পণ ‘ বলে অভিহিত করেছেন । 

বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী 

সমাজবদ্ধ মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন । অর্থাৎ , যেসব কাজকর্ম বাহ্যিক এবং রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত সেইসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় আইন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় । মানুষের অন্তর্জীবনের চিন্তাভাবনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই । 

বাধ্যতামূলক 

আইন বাধ্যতামূলক ভাবে বলবৎ হয় । আইন মেনে না চললে সার্বভৌম শক্তি বলপ্রয়োগ করে নির্দিষ্ট শাস্তি দিতে পারে । অন্য কোনো নিয়ম অমান্য করা হলে ব্যক্তিকে সমালোচনা বা ভৎসনা করা হতে পারে মাত্র , কিন্তু সভ্য সমাজে আইন ছাড়া আর কোনো বিধি এভাবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বলবৎ হয় না । 

সুস্পষ্ট ও সর্বজনীন

আইনের প্রকৃতি সুস্পষ্ট ও সর্বজনীন । আইন হল এমন কিছু বিধি নিয়মের সমষ্টি যা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য । পরিবর্তনশীল আইন অচল , অনড় বা অপরিবর্তনীয় নয় । সময় ও সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে আইনের প্রকৃতিও বদলায় । 

বৈধ ও যুক্তি সংগত 

বার্কারের মতে , আদর্শ আইনের মধ্যে বৈধতা ও নৈতিক মূল্য , উভয়ই থাকা প্রয়োজন । বৈধতা বলতে আইনের পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনকে বোঝায় । নৈতিক মূল্যের অর্থ হল , আইনকে নিছক আইন হলেই চলবে না , তাকে সামাজিক ন্যায় নীতিবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে । 

স্বাধীনতা ও অধিকারের রক্ষাকর্তা 

আইনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষিত হয় । আইন সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা দেয় । সুযোগ সুবিধা যাতে প্রত্যেকে ভোগ করতে পারে তাও সুনিশ্চিত করে । 

শাসক শ্রেণির ইচ্ছা 

আইনের প্রকৃতি সম্বন্ধে মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র । মার্কসএঙ্গেলসের মতে , যেসব ব্যক্তি শাসন করে , তারা কেবল রাষ্ট্রের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা সংগঠিত করে না , তারা নিজেদের ইচ্ছাকে সর্বজনীন ইচ্ছারূপে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ইচ্ছা বা আইনরূপে প্রতিষ্ঠিত করে । মার্কসবাদী লেখক ভিশিন্‌স্কির মতে , সমাজের প্রতিপত্তিশালী শ্রেণির ইচ্ছার প্রকাশ হল আইন । রাষ্ট্রীয় আইন এক কালো মুখোশ , এর পেছনে পুঁজিপতি শ্রেণি রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সুবিধা ভোগ করে । শুধুমাত্র শ্রেণিহীন সাম্যবাদী সমাজে আইন নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে মার্কসবাদীরা দাবি করেন ।

error: Content is protected !!