জাতি রাষ্ট্র কাকে বলে

জাতি রাষ্ট্র কাকে বলে

ফরাসি বিপ্লবের সময় জাতি রাষ্ট্রের ধারণার উদ্ভব ঘটে । তার আগে মধ্যযুগে রাষ্ট্র ছিল বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণ । সেসব রাষ্ট্রে জনগণের মধ্যে কোনো মৌলিক ঐক্যবোধ কাজ করত না । একই রাষ্ট্রের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের বিভিন্ন জাতিসত্তা থাকায় তারা নিজেদের পৃথক বলে মনে করত । মার্কসীয় পণ্ডিতদের মতে , ধনতন্ত্র যখন প্রথম গড়ে উঠতে শুরু করে তখন এ ধরনের পরিবেশ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে । তাই সুসংহত অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রয়োজনে ধনতন্ত্রের মদতে জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ দেখা দেয় । 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বার্নসের মতে , জাতি রাষ্ট্রের ধারণা ফরাসি বিপ্লবের ( ১৭৮৯ ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে । এর ফলে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে স্বতন্ত্র জাতিসত্তার ধারণার উন্মেষ ঘটে । জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে । তার ফলশ্রুতি স্বরূপ স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের জন্ম হয় । পরবর্তীকালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ‘ এক জাতি এক রাষ্ট্র ’ তত্ত্বের প্রভাবে জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে ভেদরেখা মুছে যেতে শুরু করে । 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা জাতি রাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করেননি । সাধারণভাবে জাতি রাষ্ট্র বলতে জাতি বা জাতীয় জনসমাজের ভিত্তিতে গঠিত কোনো রাষ্ট্রকে বোঝায় । বার্কারের মতে , একটি অঞ্চলে জাতির ওপর রাষ্ট্রের স্থাপ পড়ার ফলে জাতি , জাতীয় সমাজ বা সম্প্রদায় এবং রাষ্ট্র জাতীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয় । 

অবশ্য জাতি রাষ্ট্রের ধারণা আধুনিক যুগে তত প্রাসঙ্গিক নয় । কারণ আধুনিক যুগে একটি রাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক জাতির অস্তিত্ব থাকা সম্ভব । পৃথিবীতে এমন বহু রাষ্ট্র রয়েছে যেগুলি বহুজাতি অধ্যুষিত রাষ্ট্র । এসব রাষ্ট্রেও বিভিন্ন জাতিসত্তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অন্তর্নিহিত গুণাবলি বিকাশের সুযোগ রয়েছে । দৃষ্টান্ত স্বরূপ ভারতবর্ষের কথা উল্লেখ করা যায় ।

error: Content is protected !!