জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের পার্থক্য

জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের পার্থক্য

জাতীয়তাবাদআন্তর্জাতিকতাবাদ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা । জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে । পার্থক্যগুলি হল— 

উৎপত্তিগত পার্থক্য 

বহুকাল আগে মধ্যযুগে ইউরোপের নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলনের ফলে জাতীয়তাবাদের উৎপত্তি ঘটে । পরে ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় জাতীয়তাবাদের ধারণা পূর্ণতা লাভ করে । 

অন্যদিকে , আন্তর্জাতিকতাবাদের উৎপত্তি অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালের ঘটনা । মূলত ১৯৩৯ সালে সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির পর থেকে আন্তর্জাতিকতাবাদের জন্ম হয় । 

সংজ্ঞাগত পার্থক্য 

কোনো জনসমাজের মধ্যে বংশ , ধর্ম , ভাষা , সাহিত্য , সংস্কৃতি প্রভৃতি নানা বিষয়ে যখন গভীর একাত্মবোধের সৃষ্টি হয় তখন জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ । এই জাতীয়তাবোধের সঙ্গে দেশপ্রেম মিলিত হলে

জাতীয়তাবাদ সৃষ্টি হয় । 

অন্যদিকে , আন্তর্জাতিকতাবাদ হল এমন এক বিশেষ মানসিক অনুভূতি যা এক বিশ্ব , এক রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাসী । 

আদর্শগত পার্থক্য 

জাতীয়তাবাদ জাতীয় রাষ্ট্র গঠনের আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করে । 

অন্যদিকে আন্তর্জাতিকতাবাদ বিশ্ব রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এক বিশ্বসমাজ গড়ে তুলতে চায় । 

ধারণাগত পার্থক্য 

জাতীয়তাবাদ নিজের জাতি সম্পর্কে এক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা প্রচার করে জাতিগত স্বাতন্ত্র্য গড়ে তোলে । 

অন্যদিকে , আন্তর্জাতিকতাবাদ জাতিগত স্বাতন্ত্র্যের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বশান্তি ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক আদর্শ বিশ্বসমাজ ও বিশ্বমানব সভ্যতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে । 

ভিত্তিগত পার্থক্য 

পরিশেষে বলা যায় , জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হল স্বদেশপ্রীতি , অন্যদিকে আন্তর্জাতিকবাদের মূলভিত্তি হল বিশ্বপ্রীতি । 

error: Content is protected !!