শরাহ কাকে বলে

শরাহ কাকে বলে

আল্লাহ্তা’লা আমাদেরকে যে নিয়ম পালন করে চলবার হুকুম দিয়েছেন তারই নাম শরাহ । 

শরাহ হুকুম কয় প্রকার এবং কি কি 

দুই প্রকার : —— যথা ১. আদেশ বাক্য ও ২. নিষেধ বাক্য । 

আদেশ বাক্য কাকে বলে 

শরাহ এর যে হুকুম দ্বারা কোন কার্য্য করিতে আদেশ বুঝায় তাহাকে আদেশ বাক্য বলে ।

আদেশ বাক্য কয় প্রকার এবং কি কি 

তিন প্রকারঃ —— ১. ফরজ , ২. ওয়াজেব ও ৩. সুন্নত ।   

ফরজ : যে কার্য করণের আদেশ কোরান শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হইয়াছে তাহাকে ফরজ বলে । ইহা সকলকেই করিতে হইবে , করিলে সওয়াব , না করিলে মহা পাপ । আর যে উক্ত আদেশ অস্বীকার করিবে সে কাফের হইবে ।  

ওয়াজেব : যে কার্য্য করিবার হুকুম কোরাণ শরীফে দ্বি-অর্থ বোধক শব্দ দ্বারা প্রমাণিত হইয়াছে তাহাকে ওয়াজেব বলে । ইহাও সকলকে করিতে হইবে , করিলে সওয়াব , না করিলে আজাব কিন্তু ইহার অবিশ্বাসকারী কাফের হইবে না অথচ মহাপাপী হইবে । 

সুন্নত : সুন্নত দুই প্রকার : ( ক ) সুন্নাতে মোয়াক্কাদা ও ( খ ) সুন্নাতে গায়ের মোয়াক্কাদাহ বা সুন্নাতে জায়েদাহ । 

ফরজ ও ওয়াজেব ব্যতীত আমাদের পয়গম্বর ( সঃ ) সতত যে কাৰ্য্য গুলি করিয়াছেন তাহাকে সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ বলে । ইহাও সকলের করা কর্ত্তব্য , করিলে সওয়াব পাইবে আর না করিলে তিরস্কৃত হইবে , আর যাহা কখনও করিয়াছেন , কখনও করেন নাই তাহাকে সুন্নাতে জায়েদাহ বলে , ইহাকে মোস্তাহাবও বলে । ইহা করিলে সওয়াব , না করিলে কিছুই না । 

নিষেধ বাক্য কয় প্রকার এবং কি কি

তিন প্রকার  —১. হারাম , ২. মাকরূহ তাহরিমী ও ৩. মাকরূহ তানজিহ ।

হারাম : যে মৰ্ম্ম কোরান শরীফ হইতে নিষেধ প্রমাণিত হইয়াছে তাহাকে হারাম বলে । ইহা ত্যাগ করিতেই হইবে , ছাড়িলে সওয়াব , না ছাড়িলে আজাব , আর ইহার নিষেধ অবিশ্বাস করিলে কাফের হইবে । 

মাকরূহ তাহরিমী : যে কর্ম্ম করিলে প্রায় হারামের সমান পাপ হয় তাহাকে মাকরূহ তাহরিমী বলে , ইহা ছাড়িতে হইবে , ছাড়িলে সওয়াব , না ছাড়িলে তিরস্কৃত হইবে । 

মাকরূহ তানজিহ : যাহা হালালের কাছাকাছি তাহাকে মাকরূহ তানজিহ বলে , ইহা ছাড়িলে সওয়াব , করিলে বিশেষ দোষ নাই । মাকরূহ শব্দের অর্থ ঘৃণিত । 

এমন কি কোন বস্তু নাই যাহা করিলে কিংবা ছাড়িলে কোন সওয়াব কিংবা আজাব নাই ? 

হাঁ আছে ইহাকে মোবাহ বলে ।

error: Content is protected !!