জ্যামিতি বাক্স ও তার ব্যবহার 

জ্যামিতি বাক্স ও তার ব্যবহার 

জ্যামিতির বিভিন্ন চিত্র আঁকার জন্য , সরল রেখাংশের দৈর্ঘ্য এবং কোণের পরিমাপ করার জন্য কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় । যন্ত্রপাতিগুলি একটি বিশেষ বাক্সে রাখা থাকে , সেই বাক্সটিকে ‘ জ্যামিতি বাক্স ‘ বলে । 

6344977 preview
জ্যামিতি বাক্স

জ্যামিতি বাক্সে যেসব যন্ত্রপাতি থাকে , সেগুলি হল— 

( i ) একটি স্কেল ( Scale বা Ruler ) 

( ii ) একটি কাঁটা কম্পাস ( Divider ) 

( iii ) একটি পেনসিল কম্পাস ( Pencil Compass ) 

( iv ) চাঁদা ( Protractor ) 

( v ) দুটি ত্রিকোণী ( Two set squares ) 

( vi ) একটি রবার ( Erasser ) । 

স্কেলের ব্যবহার

( i ) রেখাংশ বা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের রেখাংশ অঙ্কন করা যায় । 

( ii ) যে কোনো দুটি প্রদত্ত বিন্দুর দূরত্ব নির্ণয় বা রেখাংশ দ্বারা যোগ করা যায় । 

( iii ) কোনো প্রদত্ত রেখাংশকে নির্দিষ্ট বিন্দু পর্যন্ত বা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায় । 

( iv ) একটি স্কেলের একদিকে সেন্টিমিটার এবং অন্যদিকে ইঞ্চি দাগ কাটা থাকে । প্রতি সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য আবার সমান দশ ভাগে ভাগ করা থাকে । অর্থাৎ , প্রতিটি ক্ষুদ্র ঘরের দুরত্ব এক মিলিমিটার বা 0.1 সেন্টিমিটার । 

স্কেল ব্যবহারের সতর্কতা :

( i ) স্কেলটিকে যে কাগজের ওপর বসাতে হবে সেই কাগজটি অবশ্যই একটি সমতলে থাকবে । 

( ii ) স্কেলটি কাগজের ওপর বসানোর পর যেন নড়ে না যায় । 

( iii ) দুই চোখ স্কেলের ওপর লম্বভাবে রেখে দাগ টানতে হবে । 

( iv ) নির্দিষ্ট রেখাংশের দৈর্ঘ্য পরিমাপ বা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের রেখাংশ , অঙ্কন করতে হলে , সর্বদা স্কেলের 0 ( শূন্য ) নির্দেশিত দাগ থেকে শুরু করতে হবে । 

কাঁটা কম্পাসের ব্যবহার

( i ) প্রদত্ত রেখাংশের সমান একটি রেখাংশ অঙ্কন করা যায় । 

( ii ) প্রদত্ত দুটি রেখাংশের মধ্যে তুলনা করা যায় , কোনটি বড়ো এবং কোনটি ছোটো । 

( iii ) একটি সরলরেখা থেকে নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের নির্দিষ্ট সংখ্যক রেখাংশে বিভক্ত করা যায় । 

( iv ) একটি রেখাংশকে উভয়দিকে নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত বর্ধিত করা যায় । 

পেনসিল কম্পাসের ব্যবহার

( i ) নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট বৃত্ত , অর্ধবৃত্ত ও বৃত্তচাপ অঙ্কন করা যায় । 

( ii ) নির্দিষ্ট সরল রেখাংশের সমান অংশ কাটতে ব্যবহার করা হয় । 

( iii ) সরলরেখাকে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় । 

( iv ) কোনো কোণকে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় । 

( v ) নির্দিষ্ট পরিমাপের কোণ অঙ্কন করা যায় ।

চাঁদার ব্যবহার

( i ) 0° — 180° পর্যন্ত যে কোনো পরিমাপের কোণ অঙ্কন করা যায় । 

( ii ) প্রদত্ত যে কোনো কোণ পরিমাপ করা যায় । 

( iii ) নির্দিষ্ট কোণের সমান করে অপর একটি কোণ অঙ্কন করা যায় ।

চাঁদা ব্যবহারের সতর্কতা :

চাঁদার বৃত্তাকার ধার বরাবর 0°-180° ও 180°-0° কোণ পরিমাপ সূচক স্কেল কাটা থাকে । প্রদত্ত সরলরেখার ওপর কোনো বিন্দুতে অঙ্কিত কোণটি যে দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে , চাঁদার সেই দিকের ক্রমবর্ধমান কোণের পরিমাপ সূচক স্কেল অনুসরণে করতে হবে ।

ত্রিকোণী 

জ্যামিতি বাক্সে দুই প্রকারের ত্রিকোণী থাকে । 

একটির আকার সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ । এদের বৃহত্তম কোণটি সমকোণ । এই ত্রিকোণীর তিনটি কোণের মান হল 90° , 45° ও 45° । 

অপর ত্রিকোণীর সমকোণ এর একটি ধারক বাহুর দৈর্ঘ্য অপর ধারক বাহুর দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ । বৃহত্তম কোণের মান 90° , অপর দুটি কোণের মান 60° ও 30° ।

ত্রিকোণীর ব্যবহার : 

( i ) ত্রিকোণী দুটির সাহায্যে 90° , 60° , 45° ও 30° কোণ আঁকা যায় ।  

( ii ) সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ আঁকা যায় । 

( iii ) একটি রেখাংশের ওপর লম্বভাবে অবস্থিত নির্দিষ্ট বিন্দুগামী অপর একটি রেখাংশ অঙ্কন করা যায় । 

( iv ) একটি সরলরেখার সঙ্গে সমান্তরালভাবে অবস্থিত যতগুলি খুশি সরলরেখা টানা যায় । 

( v ) আয়তক্ষেত্র , সামান্তরিক , বর্গক্ষেত্র ও রম্বস আঁকা যায় ।

error: Content is protected !!