পশ্চিমবঙ্গের কৃষির বৈশিষ্ট্য
Contents
পশ্চিমবঙ্গের কৃষির বৈশিষ্ট্য
পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির । এই জলবায়ু সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক ও আর্থিক ব্যবস্থা এখানকার কৃষির প্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা গ্রহণ করে । এর ফলে এই রাজ্যের কৃষির কতকগুলি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়ে , যেমন—
মৌসুমি বৃষ্টিপাত নির্ভর কৃষিকাজ
বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভর করে এই রাজ্যের অধিকাংশ জমিতে কৃষিকাজ করা হয় । এই সময়ের উৎপাদিত ফসল সমূহকে খারিফ ফসল বলে । উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়ায় রাজ্যের বহু জায়গায় ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি মাসে গম , সরষে , যব প্রভৃতি রবি শস্যের চাষ করা হয় । ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তার কারণে কোনো কোনো বছর শস্য চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ।
প্রগাঢ় কৃষির প্রাধান্য
পশ্চিমবঙ্গে জমির ওপর জনসংখ্যার চাপ বেশি বলে এখানে অল্প জমিতে অধিক শ্রমের বিনিময়ে অধিক ফসল উৎপাদন করা হয় ।
জীবিকা সত্ত্বা ভিত্তিক কৃষি
পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ কৃষিজ ফসলের চাষ করা হয় প্রধানত রাজ্যের চাহিদা পূরণের জন্য , রপ্তানি করে অর্থ উপার্জনের জন্য নয় ।
খাদ্যশস্য , বিশেষত ধান চাষে প্রাধান্য
অত্যন্ত জনবহুল বলে পশ্চিবঙ্গের অধিকাংশ কৃষিজমিতে খাদ্যশস্যের চাষ করা হয় । রাজ্যের অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য ভাত বলে খাদ্যশস্যের মধ্যে ধানের চাষ সবচেয়ে বেশি হয় ।
শীতকালে আলু ও বোরো ধান চাষের গুরুত্ব বৃদ্ধি
বিগত কয়েক দশকে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালীন কৃষিজ ফসল হিসেবে আলু ও বোরো ধান চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে । এই দুই ফসল উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হওয়ার ফলে এদের গুরুত্বও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে ।
অর্থকরী ফসলের চাষ
খাদ্যশস্য ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের কৃষিতে পাট , চা , তামাক , কাজুবাদাম , রেশম , পান প্রভৃতি অর্থকরী ফসলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । এই ফসলগুলির মধ্যে পাট ও চা চাষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ।
ফসল উৎপাদনের সাথে মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও হাঁস মুরগি পালন
মাছ , মাংস , দুধ , ডিম প্রভৃতি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি রাজ্যের অধিকাংশ কৃষক পরিবারেই মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করা হয় ।
সবুজ বিপ্লবের আভাস
পাঞ্জাব-হরিয়ানার মতো পশ্চিমবঙ্গেরও কতকগুলি অঞ্চলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই অবস্থা রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে ।